পোষাকের দোকানে ছাড় দিয়েও নেই ক্রেতা
পবিত্র ইদুল আযহার মাত্র একদিন বাকি। এমন উৎসব উপলক্ষ্যে অন্যান্য বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েও ক্রেতা মিলছে না কাপড়ের দোকানগুলোতে। রাজশাহী মহানগরীর মার্কেট এবং বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার খরা চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানি ইদ আসলে ক্রেতার সংকট শুরু হয়। কয়েক বছর ভালো বিক্রি হলেও আবার ক্রেতার খরা চলছে।
রাজশাহী নগরীর গণকপাড়া থেকে নিউমার্কেট এলাকা পর্যন্ত বিপণিবিতানগুলোতে সারা বছর ছাড় থাকলেও ইদের সময় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের স্টিকার লাগানোর এমন চিত্রই চোখে পড়ে। প্রতিটি শোরুমে ডিসকাউন্ট লিখে রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু শোরুমে দুটি কিনলে একটি ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। আরও আছে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও উপহারের অফার।
কিন্তু এত ছাড় দেওয়ার পরও বিক্রেতারা আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না। বিপণিবিতানের মতো আরর্ডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেট, থিম ওমর প্লাজাসহ সবখানে সাধারণ সময়ের চেয়ে ক্রেতারা কম আসছেন। ইদ উৎসবের দিন ঘনিয়ে এলেও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না কাপড় ব্যবসায়ীরা।
বিক্রেতারা জানান, কোরবানির এই ইদে কাপড়ের দোকানে তেমন একটা ভিড় থাকে না। তবে এবারের অবস্থা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ কম। একই অবস্থা নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও। তারা বলেন, এবারের ইদ মার্কেটে ক্রেতাদের চেয়ে দর্শনার্থী বেশি এবং রোজার ঈদের মাঝখানে ক্রেতার সংখ্যা আরও কম ছিল। আমরা লাভের জন্য নয়, খরচ তোলার জন্য সীমিত লাভেও পণ্য বিক্রি করছি। ক্রেতারা আসছেন গজ কাপড়ের দোকান থেকে গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা কাপড় কিনছেন। আর শাড়ি, কসমেটিকসসহ আন্যান্য সামগ্রী কিনছেন ইদে ছুটির ফাঁদে বিয়ে আয়োজনের জন্য।
ইজি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক রাকিব হাসান বলেন, ইদ উপলক্ষে আমাদের অনেক কালেকশন আছে। বিভিন্ন পোশাকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে। কিন্তু বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। অনেকেই দোকানে এসে শুধু ঘুরে চলে যাচ্ছেন।
ক্যাটস আইয়ের ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, গত বছর এই সময় দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকত না। এবার ডিসকাউন্ট দেওয়ার পরও সেই ভিড় নেই। ক্রেতারা এখন খুব হিসেব করে কেনাকাটা করছেন।
লাইভ ওকে নামের একটি পোষাকের দোকানে এ চলছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক তানভীর আহমেদ বলেন, আমরা ইদকে সামনে রেখে বড় ধরনের অফার দিয়েছি। কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ, আবার কিছু পণ্যে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট চলছে। কিন্তু তারপরও কাক্সিক্ষত ক্রেতা পাচ্ছি না। মানুষ এখন খুব সীমিত বাজেটে কেনাকাটা করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখছি। নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক এনেছি। কিন্তু আগের বছরের মতো কেনাকাটার চাপ নেই। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চাপে পড়ছেন।”
শারমীন আক্তার নামের এক ক্রেতা বলেন, কোরবানি ইদে পছন্দের দামি কাপড় কিনতেই হবে এমন ব্যাপার না। তাই সময় করে ঘুরতে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী কিনতে এসেছি।
আরজিনা খাতুনস ঋতু নামের আরেকজন বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যের আকাশ ছোঁয়া দাম। গত দুইমাস আগেই অনেক খরচ করে রোজার ইদ পার করা হয়েছে করেছেন। এখন কোরবানির ইদ এসেছে। এই ঈইদে বেতনের একটা বড় অংশ কুরবানির পশু কিনতে চলে যায়। কাজেই এই ইদে কাপড়ের চেয়ে তাদের কেনার তালিকায় আছে কসমেটিকস, নিত্য প্রয়োজনীয়পণ্য।