ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়
আর একদিন পরই মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ইদুল আজহা। ইদের দুইদিন আগে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে পশুর হাটে। পশুতেও ঠাসা ছিল হাটগুলো। বেচাবিক্রিও বেশ জমে উঠেছে হাটগুলোতে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হবে এ ইদ। কোরবানির পশু কিনতে এখন হাটে ছুটছেন সবাই। তাই রাজশাহীর পশু হাটে জনস্রোত নেমেছে।
সোমবার (২৫ মে) রাজশাহীর বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কোরবানির জন্য তৈরি করা দেশিজাতের মাঝারি আকৃতির গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। বড় গরুর চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই যেসব খামারি কোরবানির ইদকে সামনে রেখে বড় গরু লালন-পালন করেছেন শেষ মুহূর্তে এসে তারা বিক্রি না হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী বৃহত্তম সিটিহাট ঘুরে দেখা গেছে, সময় ঘনিয়ে আসায় এই পশুর হাটে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গেল সপ্তাহে হাটে গরু থাকলেও কেনার মতো ক্রেতা ছিল না। এবার অন্য জেলার পাইকাররাও সেভাবে আসেনি। ছিল বৈরি আবহাওয়া। কোরবানির দিন ঘনিয়ে আসায় দেশি জাতের গরুর সরবরাহ বেড়ে গেছে।
মজুদ বাড়লেও দাম কমছে না দেশি গরুর। তাই দেশি গরুর দাম এখনও মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতের নাগালের বাইরে। অনেকে গরু কিনতে হাটে আসলেও দাম বেশি থাকায় দরদাম করে বাড়ি ফিরছেন। তাদের আশা শুক্রবারে কোরবানির পশুর দাম কমে যাবে। তখন সাধ্যের মধ্যে গরু পাওয়া যাবে।
রাজশাহী সিটি হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট সাইজের গরুর দাম থেকে ৮০ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, মাঝারি আকৃতির গরুর দাম দাম ১২০ থেকে ২ লাখ টাকা এবং বড় আকৃতির গরুর দাম তিন লাখ থেকে হাঁকানো হচ্ছে।
সিটিহাটে আসা গরু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এবারও দেশি জাতের গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে। আর দেশি গরুর কোনো সংকটও নেই। কেবল দাম একটু বেশি। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় এবার খামারে গবাদি পশু লালন-পালনের ব্যয় বেড়েছে। তাই দামও বেশি। হাটে মাঝারি আকৃতির ক্রেতাই বেশি বলে জানান তিনি।
দাম বাড়লেও তাদের করার কিছু নেই উল্লেখ করে রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী জলিল উদ্দিন বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাই গরুর দামও বেড়েছে। খামারীরা কিছুটা বাড়তি লাভের আশায় এক বছর ধরে কোরবানির পশু লালন-পালন করেন। কিন্তু ভরা মৌসুমে হাটে তুলে দাম না পেলে তারাও ক্ষতির মুখে পড়বেন। আর লোকসান হলে গরু পালনের সংখ্যা কমবে। বাজারে যার প্রভাব পড়বে।
তবে ভিন্ন আশঙ্কা প্রকাশ করে একই উপজেলার বড়গাছী গ্রামের নুরুল আমিন বলেন, তার খামারে এবার ১৫টি বড় গরু পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গরু বিদেশি জাতের। এসব গরু পালন করতে বছরজুড়ে তাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। শ্রমিক নিয়ে এসব গরু পালন করেছেন কোরবানির মৌসুমে কিছু বাড়তি লাভের মুখ দেখবেন বলে। কিন্তু বড় গরুর চাহিদা কম থাকায় তার মতো অনেকেই শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তাদের পশু অবিক্রিত থেকে গেলে আরও এক বছর পলতে হবে না হলে কেজি দরে বিক্রি করে দিতে হবে। এতে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারি হবে বলে হতাশার কথা জানান এই খামারী।
এদিন নওহাটা ও তানোরের মুণ্ডুমালা হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট গরুর চাহিদা বেশি। বেচাকেনাও জমজমাট। যারা একাধিক জন একসঙ্গে কোরবানি করতে ইচ্ছুক তারা কিনছেন মাঝারি আকারের ৪ থেকে ৬ মন ওজনের গরু। সাধারণত একই পারিবারের ২ থেকে ৩ জন সদস্য মিলে ছোট গরু কিনছেন। তাদের বাজেট ৬০ থেকে ৮০ হাজারের মধ্যে। হাটে এমন ক্রেতাই বেশি। এছাড়া যারা ৭ জন মিলে কোরবানি করবেন বলে নিয়ত করেছেন; তারা মাঝারি আকারের গরু কিনছেন। ফলে ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি হলেও বড় গরু অবিক্রিতই থাকছে।
ছাগলের দামও ১৫ থেকে ৩৫ হাজারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এই হাটগুলোতে। ছোট সাইজের ছাগলগুলো পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজারের। আর বড় সাইজের ছাগলগুলো পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ হাজারের মধ্যে।
তবে রাজশাহীর হাটগুলোতে গরু ও ছাগলের আমদানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হাটে বেশিরভাগ ক্রেতাই ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দরদাম করছেন। কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা বা বড় আকারের গরুর দিকে আগ্রহ কম ক্রেতাদের।