ইদ সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চোরাচালান তৎপরতা বেড়েছে, ২ অভিযানে মোবাইল ও মাদক জব্দ
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তজুড়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাকারবারি চক্র। সীমান্তের দুর্গম এলাকা, আমবাগান ও গ্রামীণ জনপদ ব্যবহার করে ভারতীয় মোবাইল ফোন ও মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সম্প্রতি পৃথক অভিযানে ৫৯ বিজিবি ও ৫৩ বিজিবি বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোন ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চোরাচালান চক্রও তৎপর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ব্যবহৃত ভারতীয় মোবাইল ফোন, মাদক সিরাপ, ভারতীয় মদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য সীমান্তের বিভিন্ন রুট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) জানিয়েছে, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে পৃথক দুই অভিযানে মোট ২৯টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের ব্যবহৃত চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী ইকবালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। পরে ২৬ মে গভীর রাতে ভোলাহাট উপজেলার চাঁনশিকারী বিওপির আরেকটি টহল দল চামুচা গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে আরও ১৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করে।
তবে অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত মোবাইল ফোনগুলো কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) পরিচালিত পৃথক দুই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মনোহরপুর বিওপির সদস্যরা শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রাম থেকে ৫০ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ উদ্ধার করেন। অন্যদিকে, রঘুনাথপুর বিওপির সদস্যরা দুর্লভপুর ইউনিয়নের খাকসাপাড়া গ্রাম থেকে ৪০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেন।
জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। পরে এসব মাদক শিবগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
৫৩ বিজিবির তথ্যমতে, চলতি মে মাসেই ব্যাটালিয়নটি ১৪৫ বোতল ভারতীয় মদ, ৫১০ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ৯৭ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ, ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা জব্দ করেছে। যার মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল, আমবাগান ও নদীপথ দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ছোট ছোট চালানে পণ্য দেশে প্রবেশ করানো হয়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের কিছু এলাকায় এখনও সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা কিশোর ও বেকার যুবকদের ব্যবহার করে চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঈদকে সামনে রেখে এসব তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিজিবি সব ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।