সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ট্যাংক ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৯

সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ মে ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ মে ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ট্যাংক ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৯

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি কাগজ ও প্যাকেজিং কারখানায় বড় একটি রাসায়নিক ট্যাংক ফেটে পড়ে অন্তত একজন নিহত, নয়জন আহত ও আরও নয়জন নিখোঁজ হয়েছে।


মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাউলিটজ কাউন্টির লংভিউয়ের নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানিতে ঘটনাটি ঘটে।


দমকল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্যাংকটিতে শোধনের জন্য রাসায়নিক পদার্থ রাখা ছিল আর সেগুলোর মধ্যে কিছু বিপজ্জনক উপাদানও ছিল।


লংভিউ দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ট্যাংকটিতে কাগজ তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা রাসায়নিক মিশ্রণ ‘হোয়াইট লিকার’ ছিল। এটি কাগজের মণ্ড তৈরিতে ব্যবহৃত সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের একটি রাসায়নিক দ্রবণ।


এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আশপাশের এলাকাগুলোর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে লোকজনকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


কাউলিটজ টু ফায়ার এন্ড রেসক্যু প্রধান স্কট গোল্ডস্টেইন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত নয়জন শ্রমিক ও এক দমকল কর্মীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে কতোজনের মৃত্যু হয়েছে তা ‘নির্ধারিত হয়নি’।


লংভিউয়ের পিসহেলথ সেন্ট. জন মেডিকেল সেন্টার এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, এই ঘটনায় আহত নয়জনকে তারা চিকিৎসা দিয়েছে আর তাদের মধ্যে একজন মারা গেছে। বাকিদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা ভালো আছে আর অন্য দুইজনকে আরেকটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


কর্মকর্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন, ট্যাংকটির ধারণ ক্ষমতা ৮০ হাজার গ্যালন আর ঘটনার সময় এটি ৬০ শতাংশ পূর্ণ ছিল। কিন্তু পরে তারা জানান, ট্যাংকটির ধারণ ক্ষমতা আরও অনেক বেশি আর ঘটনার সময় এতে প্রায় ৯ লাখ গ্যালন হোয়াইট লিকার ছিল। ফেটে গিয়ে ধসে পড়া ট্যাংকটিতে এখনও প্রায় ৯০ হাজার গ্যালন লিকার রয়ে গেছে।


গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প কারখানা, কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রণাঘাতীও ছিল।


গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরেকটি রাসায়নিক ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিস্ফোরণের ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত আশপাশের হাজার হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।


এর আগে এপ্রিলে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার একটি প্রকল্প থেকে নাইট্রিক এসিড ও আরেকটি রাসায়নিক উপাদান লিক করে দুইজনের মৃত্যু হয় ও আরও বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।


গত বছরের অক্টোবরে টেনেসির এক বিস্ফোরক তৈরির কারখানায় ২৪ হাজার পাউন্ডের বেশি বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়ে ১৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল। এই বিস্ফোরণ এতো তীব্র ছিল যে ওই এলাকায় ১ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প নথিবদ্ধ হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ