বাঘায় ইদের ছুটিতে পদ্মা পাড়ে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়
রাজশাহীর বাঘায় ইদের ছুটিতে পদ্মা পাড়ে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার (২৯ মে) ইদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যায়। উপজেলায় কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর পদ্মা নদীর পাড়ে মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন।
এ বিষয়ে লালপুরের বিলমাড়িয়া থেকে ঘুরতে আসা কেয়া সুলতানা বলেন, আমার এলাকায় কোনো বিনোদনের জন্য জায়গা নেই। আমরা সপরিবার ঘুরতে এসেছি। তবে বসার স্থান করে দেওয়া হলে ভাল লাগতো।
এ বিষয়ে পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক বছরে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া অনেকেই ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বহারা হয়েছেন। পদ্মার ভাঙন ও পানি দেখতে হাজারও মানুষ ইদের ছুটিতে ঘুরতে আসছেন। আগে এ এলাকায় কোনো মানুষ দেখা যেতো না। এখন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মানুষ ঘুরতে আসেন। এ দেখে আমাদের অনেক ভাল লাগছে।
এদিকে, ২০২২ সালে পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসহ ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দীর্ঘদিন পর উপজেলার মীরগঞ্জ ও গোকুলপুর এবং চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ও রাওথা এলাকায় ৪.৩ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ, উপজেলার আলাইপুর এলাকায় এক কিলোমিটার বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, ৮০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ পুনর্বাসন, আলাইপুর থেকে চকরাজাপুর পর্যন্ত ১২.১ কিলোমিটার পদ্মা নদীর ড্রেজিং করা হয়। এই স্থানগুলোতে বিনোদনের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, আমি শুনেছি বাঁধ নির্মাণ কাজ যে অংশটুকু হয়েছে, সেই অংশে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসছেন। এছাড়া পদ্মার মধ্যেও ইদের ছুটিতে ঘুরতে যাচ্ছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, এ এলাকায় কোনো বিনোদন স্থান নেই। মানুষ পদ্মার পানি দেখতে আসছেন। দর্শনার্থীরা কোন বিড়ম্বনায় যেন না পড়ে সেদিকে আমাদের খেয়াল রয়েছে।