সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

কোরবানির সংগৃহীত করা মাংসের দামও ৮০০ টাকা কেজি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ মে ২০২৬ ০৮:২৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ মে ২০২৬ ০৮:২৬ অপরাহ্ন
কোরবানির সংগৃহীত করা মাংসের দামও ৮০০ টাকা কেজি

বাজারে টাটকা গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকায়। একই দামে কোরবানির মাংস কেনাবেচা হচ্ছে। দাম একই থাকলেও পার্থক্য হচ্ছে- একটি কোরবানি মাংস ও অপরটি বাজার থেকে কেনা। বাজারের মাংস টাটকা ও পরিষ্কার। আর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা (ভিক্ষা বা চেয়ে নেওয়া) এসব কোরবানির ধুলা-ময়লা লাগা মাংস।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এসব মাংস কিনছে কারা? আর কেনই বা এই দামে কিনছেন। রাজশাহীনগরীর  রেলগেট এলাকায় কোরবানি ইদ উপলক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে ভ্যান গাড়িতে বসেছে এসব মাংসের দোকান। মূলত যারা দোকানদার তারা ভিখারিদের থেকে মাংসগুলো কিনছেন। মাংসের ক্রেতা- নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও কোরবানি দিয়েছেন এমন সামর্থ্যবানেরাও।


বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন জানা গেছে, কেউ বাড়িতে খাবেন, কেউ বা আত্মীয়-স্বজনদের দেবেন। অনেকেই ছাগল কোরবানি দিয়েছেন, তারা দেড়-দুই কেজি গরুর মাংস কিনছেন। আবার কেউ গরু কোরবানি করেছেন কিন্তু পরিবারের কোন সদস্য গরুর মাংস খান না বিভিন্ন কারণে। তার জন্য ছাগলের মাংস কিনছেন কেউ কেউ। তবে এখানে কোরবানির মাংস কিনতে এসে অনেকেই হতাশ।


ফিরোজ আলম বলেন, আসলে এসব মাংস মানুষকে খেতে দেন। দান করেন। কিন্তু এই মাংসগুলো ইদের দিন বিকেল থেকে কেনাবেচা শুরু হয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে কোরবানির এসব মাংস বাজারের তুলনায় কমপক্ষে দেড় থেকে ২০০ টাকা কমে কেনাবেচা হতো। কিন্তু এবার সাড়ে ৭শ, পৌনে ৮শ ও কেউ কেউ ৮শ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।


নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাংস সংগ্রহ করেছেন সুজন আলী (৫৬)। তিনি শিরোইলে আড়াই কেজি মাংস বিক্রি করলেন সাড়ে ৬শ টাকা কেজি দরে। তার কিছুক্ষণ পরে মাংসগুলো দোকানদার বিক্রি করলেন, ৭৫০ টাকা প্রতিকেজি। তিনি বলেন, এবার মানুষ কোরবানি কম দিয়েছে। তাই মাংস কম আসছে দোকানগুলোতে। ভালো মাংস ৮শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে অনেকেই বলে জানান তিনি। 


শিরোইল ও রেলগেট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় মাংস সাজিয়ে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। অনেক মাংসের ওপর ধুলাবালি ও ময়লা জমে থাকতে দেখা গেছে। তারপরও এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় কমছে না। অস্থায়ী দোকানগুলোতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।


শুধু গরুর মাংসই নয়, কোরবানির ছাগলের মাংসও বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ফকির, মিসকিন ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া কোরবানির অংশ সংগ্রহ করে তারা এসব মাংস বিক্রি করছেন।


ক্রেতা সেকেন্দার আলী বলেন, কোরবানির মাংসের স্বাদ আলাদা হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। রেলগেট এলাকায় সাহাবুদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, মাংস খোলা অবস্থায় থাকায় ধুলাবালি পড়ছে, এটা ঠিক। কিন্তু কোরবানির মাংসের স্বাদ অন্যরকম। তাই নিচ্ছি।


সুমন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারের টাটকা মাংসের সঙ্গে দামের খুব একটা পার্থক্য নেই। তবুও পরিচিত স্বাদ আর চাহিদার কারণে মানুষ কিনছে। এসব দোকানে আগে মাংসের দাম কম ছিল। চাহিদা বাড়ার কারণে দামও বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। 


স্থানীয়রা বলছেন, ইদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এ ধরনের অস্থায়ী বাজার বসে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খোলা জায়গায় মাংস বিক্রি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।


জানা গেছে, শিরোইল, রেলগেট ও রেল স্টেশন থানার সামনে বসেছে মাংসের দোকান। এসব এলাকায় ১৫ থেকে ১৭টি এমন দোকানে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।