সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রাবির সাম্প্রতিক পাঁচ উপাচার্যের শিক্ষাজীবন ও গবেষণা যেমন ছিল

রাবি প্রতিবেদক ৩১ মে ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ৩১ মে ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন
রাবির সাম্প্রতিক পাঁচ উপাচার্যের শিক্ষাজীবন ও গবেষণা যেমন ছিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নেতৃত্বে গত এক যুগে দায়িত্ব পালন করেছেন ভিন্ন ভিন্ন একাডেমিক পটভূমির পাঁচজন উপাচার্য। সমাজবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষা—বিভিন্ন শাখা থেকে উঠে আসা এই শিক্ষাবিদদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নানা সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য হিসেবে প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম নিয়োগ পাওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে রাবির সর্বশেষ পাঁচ উপাচার্যের একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক প্রোফাইল।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রত্যেক উপাচার্যই দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। তবে বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র্যের কারণে তাদের প্রশাসনিক নেতৃত্ব, গবেষণার ক্ষেত্র এবং দৃষ্টিভঙ্গিতেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম উপাচার্য ছিলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মিজানউদ্দিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে পিএইচডি এবং কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। সামাজিক বিজ্ঞান ও উন্নয়ন গবেষণায় তার দীর্ঘ একাডেমিক অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

২৩তম উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে (বর্তমান ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারফেস ফিজিক্স (ঝঁৎভধপব চযুংরপং) বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল পদার্থবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়। তবে তার প্রশাসনিক মেয়াদ বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে আলোচিত হয়েছিল।

২৪তম উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার (তাপু) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল আপন টাইন বিশ্ববিদ্যালয় (ঘবপিধংঃষব টঢ়ড়হ ঞুহব টহরাবৎংরঃু) থেকে কৃষিবিজ্ঞানে এমফিল এবং জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ড্রেসডেন (ঞবপযহরপধষ টহরাবৎংরঃু ড়ভ উৎবংফবহ) থেকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই হাইড্রোজিওলজি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণা মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম উপাচার্য প্রফেসর সালেহ হাসান নকীব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুপ্রেট সুপারকন্ডাক্টিভিটি (ঈঁঢ়ৎধঃব ঝঁঢ়বৎপড়হফঁপঃরারঃু) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি টোয়াস ইয়াং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড (ঞডঅঝ ণড়ঁহম ঝপরবহঃরংঃ অধিৎফ), রাজ্জাক-শামসুন ফিজিক্স রিসার্চ পুরস্কারসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি ঞযব ডড়ৎষফ অপধফবসু ড়ভ ঝপরবহপবং (ঞডঅঝ)-এর সদস্যও।

বর্তমান ২৬তম উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগ থেকে বিকম (সম্মান) ও এমবিএস সম্পন্ন করেন। এমবিএস পরীক্ষায় অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি অগ্রণী ব্যাংক স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরবর্তীতে সুইডেনের গ্যোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি এবং অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ভারতের আইআইএম আহমেদাবাদ থেকে কমনওয়েলথ বৃত্তির আওতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

রাবির সর্বশেষ পাঁচ উপাচার্যের শিক্ষাজীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান থেকে শুরু করে পদার্থবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় শিক্ষা—বিভিন্ন জ্ঞানশাখার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে তাদের মধ্যে। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন, যা রাবির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বিভিন্ন সময়ে ভিন্নধর্মী নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।