ব্র্যাকের উদ্যোগে তানোরে মৎস্য চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে পোনা মাছ বিতরণ
রাজশাহীর তানোরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ মাইক্রোফাইন্যান্স (ঘঈউচ) কর্মসূচির আওতাধীন দরিদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য চাষীর মাঝে উন্নত জাতের (মনোসেক্স তেলাপিয়া) পোনা মাছ বিতরণ করা হয়েছে। ‘ফিশ ফার্মিং প্রকল্প’র উদ্যোগে মোট ৬ জন মৎস্য চাষীর মাঝে প্রত্যেককে বিনামূল্যে ‘দুই হাজার পাঁচশো পিস করে সাড়ে ১৫ হাজার পিস গুণগতমান সম্পন্ন তেলাপিয়া মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। বিনামূল্যে মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা পেয়ে উপকারভোগী মৎস্য চাষী সদস্যরা ব্র্যাকের এধরনের উদ্যোগকে স্বাগত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১২টায় তানোর ব্রাক শাখা অফিসের আয়োজনে ৬ জন মাছ চাষীকে ২ হাজার ৫০০পিস করে মোট ১৫ হাজার পিস তেলাপিয়া মাছের পোনা প্রদান করা হয়। পোনা মাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেক্টর স্পেশালিস্ট এগ্রিকালচার ধহফ ফিশারিজ মো: বাবুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির ব্রাক শাখা ব্যবস্থাপক (ঘঈউচ) মো: শহিদুল ইসলাম, ব্রাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) এরিয়া ম্যানেজার মাহতাব হোসেন, ব্র্যাক উপজেলা হিসাব ব্যবস্থাপক হাসান হায়দার সহ উপকারভোগী সদস্য এবং ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
সেক্টর স্পেশালিস্ট এগ্রিকালচার ধহফ ফিশারিজ মো: বাবুল ইসলাম বলেন, আমরা সদস্যদের ঋণ বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রেডিট প্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।যেমন মাছের পোনা বিতরণ,হাঁসের বাচ্চা প্রদান,ফিড পিলেট মেশিন বিতরণ এবং বিভিন্ন সময় ধান ও সবজির বীজ প্রদান করে থাকি। পাশাপাশি সদস্যদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়,যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন। তিনি আরো সদস্যদের মাঝে মাছ চাষের গুরুত্ব,সঠিক পরিচর্যা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
দরিদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের উপকারভোগী মৎস্য চাষী সদস্যদের আয়বৃদ্ধিমুলক কাজে উৎসাহিত করার জন্য এ উদ্যোগ। ব্র্যাক শুধু ঋণ কার্যক্রম করে থাকে না, পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজে সহযোগিতা করে থাকে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স একটি টেকসই, লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব মৎস্য খাত গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে চাষীদের জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে।মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির ব্র্যাক শাখা ব্যবস্থাপক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন,আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মৎস্য খাতকে আরো উৎপাদনশীল,টেকসই ও লাভজনক করে তোলা সম্ভব। ফিশ ফার্মিং প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শুধু মাছ নয়,আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরশীলতার বীজ বুনে চলেছি একটি সমৃদ্ধ কৃষিনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে।
মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) এরিয়া ম্যানেজার মো:মাহতাব হোসেন বলেন, কৃষির বিকাশ ও টেকসই মৎস্য চাষের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাষীদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুষ্টি ঘাটতি মোকাবেলায় এ ধরনের কার্যক্রম সহায়ক হবে।