মহানগরীর নিরাপত্তায় সাত দাবিতে স্মারকলিপি স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির
মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তায় সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ। সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান অপরাধের ধরণ ও কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়, শিরোইল, নওদাপাড়া, রেলস্টেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। আর এই ছিনতাইয়ে নারী ও শিক্ষার্থীরা প্রধান টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এর পাশাপাশি একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, মারামারি, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকরণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসেছে। পুলিশের ডাটাবেজে পাঁচ শতাধিক কিশোর অপরাধীর তালিকা থাকার পরও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে এরা গ্রেপ্তারের পরপরই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।
শুধু তাইনয় মাদক বিক্রি এবং সেবন এখন এতটাই সহজ হয়েছে যে, হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ যুব ও তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাদক কেনাবেচা ও সেবনের বিস্তারে তরুণ যুবসমাজসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ধ্বংসের দিকে। সেইসাথে চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এই মাদক। একই সঙ্গে সাইবার স্পেসে আর্থিক প্রতারণা এবং ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য হ্যাক করার মতো ডিজিটাল অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চুরি এবং চুরির প্রচেষ্টার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে নগরীর আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহী নগরবাসীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবি গুলো হলো- প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোতে দিন-রাত, বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ মোবাইল টহল ও নজরদারি জোরদার করা, পুলিশের তালিকাভুক্ত ৫০০ কিশোর গ্যাং সদস্য এবং তাদের পেছনে থাকা স্থানীয় প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর পাশাপাশি আরএমপির সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিশেষ নিরাপত্তা হটলাইন চালু, নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ ও জনমানবহীন এলাকার অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দ্রুত মেরামত, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ টহল দল মোতায়েন, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা রুখতে আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা, গ্রেপ্তারকৃত চিহ্নিত ও পেশাদার অপরাধীরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বা কোনো মহলের সুপারিশে সহজে পার পেয়ে না যায়, সেজন্য আদালতের প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রত্যেকটি মহল্লায় সাধারণ জনগণ এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে যে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থাটি বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটি
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, বেলাল আহমেদ, শফিকুর রহমান ও জালাল উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব সাদেকুল ইসলাম, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ শাহমখদুম থানার আহ্বায়ক আতাউর রহমান, বোয়ারিয়া থানার সদস্য সচিব তৌহিদুল হক তোতা, রাজশাহী মহানগরীর যুগ্ম সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম ও লিয়াকত খান ও এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী হায়দারসহ অন্যান্য সদস্যরা।