ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু আজ
বাংলাদেশেও চলছে উন্মাদনা
আজ শনিবার (১১ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এই মেগা আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে ১০৪ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টের উন্মাদনা এখন বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল দলের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও অন্যান্য প্রিয় দলের সমর্থনে পুরো দেশ যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। দেশের অলি-গলি ও বাড়ির ছাদে প্রিয় দলের বিশাল পতাকা টানানো হয়েছে। জার্সি ও পতাকার দোকানে এখন উপচেপড়া ভিড়। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বিভিন্ন শহরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল বের করছেন। বাড়ি-ঘরের ছাদে বিশাল পতাকা টানানো হয়েছে, বড় পর্দায় বা প্রজেক্টরে বন্ধুদের সাথে খেলা দেখার জন্য ক্লাব বা পাড়া-মহল্লায় চলছে জমকালো আয়োজন এবং দলগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে পাড়া-মহল্লায় তুমুল বিতর্ক ও উৎসব চলবে দেড় মাস জুড়ে।
বাংলাদেশিদের ফুটবল পাগল হওয়ার মূল কারণ লুকিয়ে আছে এর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, উন্মাদনা সৃষ্টিকারী ক্লাব সংস্কৃতি এবং বিশ্বমঞ্চে লাতিন আমেরিকার (ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা) খেলার নান্দনিকতার প্রতি গভীর ভালোবাসায়। ব্রিটিশ আমল থেকেই ফুটবল এই অঞ্চলের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা মত ও পথের মানুষ থাকলেও, ফুটবল মাঠে সবাই একাকার হয়ে যায়। সীমানার বাধা পেরিয়ে এই টুর্নামেন্ট পুরো পৃথিবীকে একটিমাত্র মঞ্চে নিয়ে আসে। এটি মানুষকে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিয়ে নির্মল আনন্দের খোরাক জোগায়। ছোট-বড় সব দেশের অংশগ্রহণে ফুটবল মাঠ হয়ে ওঠে বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রতীক।
বিশ্বকাপ কেবল একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সংস্কৃতির মিলনমেলা। এই আসর যেমন বিশ্বমঞ্চে নতুন তারকাদের উত্থানের সাক্ষী হয়, তেমনি মানুষকে শেখায় হার না মানা মানসিকতা ও বৈচিত্যের প্রতি সম্মান। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশিদের উন্মাদনা ও আবেগ বরাবরই অনন্য। তবে অন্য যে কোনো সময় থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ এলে উন্মাদনা বেড়ে যায়। এ সময়টায় অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন দল সাপোর্ট করে থাকেন। প্রিয় দলের প্রতি এই নিখাদ ভালোবাসা বা আবেগ থাকাটা মোটেও অন্যায় নয়।
খেলাকে ভালোবাসার এ সংস্কৃতি আমাদের বিনোদনের একটা বড় অংশ। কিন্তু এই আকাশচুম্বী উন্মাদনার ভিড়ে মাঝেমধ্যে আমরা খুব মৌলিক একটি বিষয় ভুলে যাই। অন্য দেশের পতাকা ওড়ানোর হুজুগে অনেকেই নিজের প্রাণের লাল-সবুজ পতাকার কথা একদমই মনে রাখেন না। আবার কেউ কেউ পরম যত্নে প্রিয় দলটির পতাকা বিশাল আকারে টাঙালেও, নিজের দেশের পতাকাটি রাখেন একেবারেই ছোট আকারে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় দেখা যায়, বিদেশি পতাকার নিচে স্থান পায় আমাদের স্বাধীন দেশের পতাকা। আমাদের মনে রাখা উচিত, যে কোনো কিছুর চেয়ে নিজের দেশের সম্মান ও মর্যাদা সবার আগে। ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ লাল-সবুজ পতাকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও মর্যাদা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অন্য কোনো দেশের পতাকা উড়াতে হলে সবার আগে বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে হবে এবং তা অবশ্যই অন্য দেশের পতাকার চেয়ে আকারে বড় অথবা সমমানের এবং উঁচুতে হতে হবে।