নাটোরে নারী ও কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন
নাটোরে নারী ও কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতা এবং ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নাটোর জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে শহরের কাইনাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি নাটোর সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক অসুস্থ শিশুর মায়ের ধর্ষণের অভিযোগ এবং জেলায় নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। মানববন্ধন থেকে যৌন সহিংসতায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামা বশাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, দিঘাপতিয়া এম কে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ আব্দুর রাজ্জাক।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন, নাটোর ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সভাপতি ও মহিলা পরিষদের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট খগেন রায়, নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী আব্বাস আলী, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সাথীর নির্বাহী পরিচালক শিবলী সাদিক, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি নরেশ ওরাও, নাটোর মহিলা পরিষদের লিগ্যাল সম্পাদক বিজলী রেজা ও নারী নেত্রী শাহিনা লায়েজু।
এ সময় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। তারা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী অধিকারকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য গত রোববার (৭ জুন) রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে অসুস্থ শিশুকন্যার চিকিৎসা করাতে আসা এক মা (১৮) কে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং সুইপারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৪) এবং প্রাঙ্গনকে (২৩) আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনজনকে আটক করেছে নাটোর সদর থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই নারী দুই বছর বয়সী অসুস্থ কন্যাকে গত ৫ জুন নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার স্বামী পেশায় অটোরিকশাচালক। কাজের জন্য তার স্বামী বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালে মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।
ওই দিন রাত ১০টার দিকে আসামি অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
এসময় অমিতের অপর দুই সহযোগী অনিল ও প্রাঙ্গন সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তারা ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং তাদের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ ও হুমকি প্রদান করে।
এদিকে, ওয়ার্ডে শিশুটি মাকে না পেয়ে কে কান্নাকাটি শুরু করলে পরবর্তীতে আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাউদ্দিন হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ছয়তলার সিঁড়িতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর তারা হাসপাতাল স্টাফদের নিয়ে সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন।