মহানগরীতে বৃষ্টিতে জলজট, জমেছে হাঁটুপানি
রাজশাহীতে কয়েকদিন মেঘলা থাকার পর অবশেষে দেখা মিলেছে বৃষ্টির। তবে এই বৃষ্টি স্বস্তির বদলে ভোগান্তি এনে দিয়েছে। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি পর্যন্ত জমেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। চলে টানা আড়াইটা পর্যন্ত এরপর থেমে থেমে আরও কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি চলে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এতে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ মিলিমিটার। আর এই পরিমাণ বৃষ্টিতেই ভাসছে রাজশাহী নগরী। বিশেষ করে নগরীর মধ্যাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমে গেছে।
সড়ক ঘেঁষে থাকা ড্রেনের পয়োনিষ্কাশনের নোংরা আর বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে পুরো রাজপথ। আর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই দুর্ভোগ। রাজশাহী নগরীর রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সৌন্দর্য বর্ধনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও বর্ষণমুখর দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তা ম্নান হচ্ছে।
বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে মহানগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, গণকপাড়া, তালাইমারী মোড়, শিরোইল, কাদিরগঞ্জ, বর্ণালী মোড়ের পেছনে, উপশহর, লক্ষ্মীপুর, ঝাউতলা, ভাটাপাড়া, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে, রাজশাহী পর্যটন মোটেল রোড, সপুরা গোরস্থানের মোড় থেকে উপশহর মোড়, গৌরহাঙ্গা রেলগেইট, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মোড়, শালবাগান, মালদাহ কলোনিসহ বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টি মানেই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কে তাই জলজটের কারণে যানজটও লেগে থাকছে। এরপর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনেক এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে আবার কিছু কিছু এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই সেগুলোতে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেশি।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি হবে হবে করেও হয়নি। অবশেষে তা হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ বেশ ভালোই আছে। এদিন রাত নয়টা পর্যন্ত ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।