মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

বগুড়ার সাইলো সড়ক সংস্কারে সাড়ে ৯ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি ১২ জুন ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ১২ জুন ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন
বগুড়ার সাইলো সড়ক সংস্কারে সাড়ে ৯ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

খাদ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রনে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার-সাইলো (খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার) সড়ক সংস্কার ও পুননির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি টেকসই আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মাণে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।


স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা প্রকল্পের কাজে কঠোর তদারকি এবং মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার-সাইলো সড়কের দীর্ঘ তিন কিলোমিটার দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ছিল। এতে উপজেলার সান্দিড়া, দমদমা, প্রশাদখালী, কদমা, করজবাড়ী ও এর আশপাশের ২৫টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। খাদ্যশস্য ও বাফার গুদামের সার পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল।


সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সড়কটি নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ পায় নওগাঁর এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ৩ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়, যা ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইলো খাদ্য সংরক্ষণাগারের প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজ শুরু করেছে। তবে কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।


সাইলোর পাশের গ্রাম সান্দিড়ার সোহেল রানা, খোকন, সবুজ ও গুলজার একাধিক স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের গাইডওয়ালে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি না খুঁড়ে মাত্র কয়েক ইঞ্চি খনন করা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ও পুরোনো ইট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ে ১০ মিলিমিটার রড, নিম্নমানের পাথর, ময়লাযুক্ত বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা।


এছাড়া পুরনো কার্পেটিং তুলে রোলার করা প্রয়োজন থাকলেও পুরনো কার্পেটিংয়ের ওপর বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা টেকসই নয়। ওই বাসিন্দারা আরোও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইনবোর্ড বসায়নি। এলাকাবাসী শিডিউল দেখতে চাইলে প্রায় এক মাস পার হলেও তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।


অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)-এর সাইড ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের সব নির্মাণ সামগ্রীর ল্যাবরেটরি টেস্ট করা হয়। এরপর সেসব সামগ্রী নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। ইটের সমস্যা থাকতে পারে। কারো অভিযোগ থাকলে খারাপ ইট তাৎক্ষণিক তুলে নিয়ে চলে যাব। তা ছাড়া শিডিউল অনুযায়ীই কাজ চলছে।


তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এ টি এম কাউছার হোসেন জানান, গতকাল বুধবার বিষয়টি জেনেছি। এরপর থেকে কাজটি যাতে মানসম্মত হয়, সে জন্য ওখানে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী স্ট্যান্ড বাই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরএমও, আরএমইও কাজ তদারকি করছেন। ঢালাইয়ের সময় তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন। মানসম্মত কাজ হবে আশা করি।