সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বগুড়া শহরে উড়াল সড়কে চলবে ট্রেন, একনেকে যাচ্ছে রেল প্রকল্প

বগুড়া প্রতিনিধি ১২ জুন ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ১২ জুন ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন
বগুড়া শহরে উড়াল সড়কে চলবে ট্রেন, একনেকে যাচ্ছে রেল প্রকল্প

সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বগুড়ার কেন্দ্রীয় বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই মসজিদের কাজের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে।


শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।


প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলায় ২২’শ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ। দাতা সংস্থার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা মেনে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এ রেলপথের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।


বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট ও ভোগান্তি দূর করতে আমরা নতুন একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করছি। পরিকল্পনা রয়েছে, রানীরহাট থেকে বগুড়া শহরে যে রেল সংযোগ আসবে, সেখান থেকে ঢাকা মেট্রোরেলের আদলে উড়াল রেললাইন বা পিলার তৈরি করে শহরের ওপর দিয়ে ট্রেনটিকে নিয়ে গিয়ে গাবতলীতে নামানো হবে। এতে রেল স্টেশনটি মেট্রো রেলের মতো দোতলায় হবে, শহরে কোনো রেলগেট থাকবে না এবং নিচের অংশটি রাস্তা হিসেবে সিটি কর্পোরেশন ব্যবহার করতে পারবে। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।


তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী-বগুড়ার বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই ঠিকাদার নিয়োগ করে এর কাজ শুরু হবে। এছাড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বিভিন্ন চত্বর সংস্কারের যাবতীয় কাজ নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের অধীনে সম্পন্ন করা হবে। এ মুহূর্তে রাস্তাঘাট ভাঙচুর না করে বিদ্যমান অবকাঠামো ঠিক রেখেই পানি নিষ্কাশন ও চলাচলের পথ সুন্দর করার কাজ চলছে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করার কাজ চলছে। নতুন নামকরণে এটি ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে সংসদে পাস করা হবে।


ভবিষ্যতে বগুড়ায় যাতে আলাদা কৃষি, প্রকৌশল বা চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় না লাগে, সেজন্য এ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই জেনারেল অনুষদের পাশাপাশি প্রকৌশল, কৃষি ও চিকিৎসা অনুষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এখানে পিএইচডি ও দেশি-বিদেশি গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণার সুযোগ থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে এটি মন্ত্রিপরিষদে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের কোলাহলমুক্ত কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।


প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়া বিমানবন্দরটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা আধুনিক ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে মোট ৬টি বিশেষ সুবিধা থাকবে, যার মধ্যে ডমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি কার্গো সুবিধা এবং বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।


দেশের এ চতুর্থ বা পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহরে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংযুক্ত হবে। এছাড়া এখানে দেশের প্রথম বেসরকারি পাইলট ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ পরিবারের সন্তানরাও পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। উত্তর অঞ্চলের উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির জন্য এখানে কার্গো সুবিধা বিশেষভাবে ভূমিকা রাখবে।


মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেই স্বাধীনতার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। বগুড়া প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, রাস্তা ও এসিসহ সার্বিক সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেন, যা সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।


বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।