সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

প্রশিক্ষণে বদলে যাচ্ছে কৃষি উদ্যোক্তাদের পথচলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জুন ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জুন ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
প্রশিক্ষণে বদলে যাচ্ছে কৃষি উদ্যোক্তাদের পথচলা

কৃষিপণ্য বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে বদলে যাচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের পথচলা। কেউ আলু দিয়ে তৈরি করছেন বহুমুখী খাদ্যপণ্য, কেউ আবার নিরাপদ ও খাঁটি কৃষিপণ্য নিয়ে দেশীয় বাজার ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এমন অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালায়। 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকায় ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপ এ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ- পার্টনার এপিসিইউ-ডিএএম প্রকল্পের আওতায় কর্মশালার আয়োজন করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালকের কার্যালয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম. এম. আরিফ পাশা। সভাপতিত্ব করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান। স্বাগত বক্তব্য দেন, রাজশাহীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, পার্টনারের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. বায়েজীদ বোস্তামী। 

প্রবন্ধে রাজশাহী বিভাগে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যক্রম, অগ্রগতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও বাজার সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম.এম. আরিফ পাশা বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি এখন সঠিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কৃষক ও উদ্যোক্তাদের বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন। নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে নিরাপদ খাদ্য, ন্যায্য মূল্য ও টেকসই বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাবে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়ার ফলে তাঁদের ব্যবসায় বাস্তব পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির ধারণা সীমিত ছিল, এখন তাঁরা বাজার বিশ্লেষণ, পণ্যের মান, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং ক্রেতার চাহিদা সম্পর্কে আরও সচেতন হয়েছেন।

বগুড়ার এনএস ফুড কর্ণারের সত্ত্বাধিকারী নাদিরা হাসান বলেন, তিনি আলুর বহুমুখী ব্যবহার প্রকল্পের একজন ট্রেনার। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পার্টনার এপিসিইউ-ডিএএম প্রকল্পে ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়া যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তাঁর ব্যবসার পরিধি বেড়েছে।

উদ্যোক্তা নাদিরা হাসান আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর ফুড কর্ণারে আলুর পাফ, আলুর চকলেট, আলুর আইসক্রিম, আলুর হালুয়া, আলুর পাটিসাপটা, আলুর আচার, আলুর ললি, আলুর মাশরুম, আলুর আটা, আলুর স্টার্চসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার নামাজগড় এলাকার এনএস ফুড কর্ণার থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার সুমাইয়া’স অর্গানিক ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আয়োজিত এ ধরনের কর্মশালা উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ তাঁর ব্যবসা পরিচালনা, বিপণন ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

উদ্যোক্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, বাবার অনুপ্রেরণায় খাঁটি ও নিরাপদ খাদ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বর্তমানে গরুর দুধের ঘি ও সরিষার তেল নিয়ে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে দেশীয় মশলা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর পার্টনার ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফারুক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রাজস্ব ড. চিত্রলেখা নাজনীন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যান ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আয়োজকেরা বলেন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ, বাজার সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক বিপণন কৌশল ও বাজার-সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিপণ্য দেশীয় বাজার ছাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।