পত্নীতলায় পৃথক দুর্ঘটনায় তিন ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু
নওগাঁর পত্নীতলায় পৃথক দুর্ঘটনায় তিন ব্যক্তির মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) দিনে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে সর্পদংশন, বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে পৃথক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম পড়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দিবর ইউনিয়নের চকসহবত (ইটাপুকুর) গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বেগম (৬০) সাপের দংশনের শিকার হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উল্লিখিত গ্রামের মকবুল হোসেনের স্ত্রী।
অন্যদিকে, উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের জুয়েল (৪০) শনিবার বিকালে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথিমধ্যেই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। তিনি উল্লিখিত গ্রামের মৃত শফি মন্ডলের পুত্র।
এদিন, উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর উচ্চপাড়া গ্রামের আম্বিয়া খাতুন (৩৫) অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তার বাবার নাম মো. আবুল হোসেন।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক উপরোক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পৃথক দুর্ঘটনায় একইদিনে উপজেলায় তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড হয়েছে।’
এদিকে, ৪৭ নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নিহত তিন পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি মরহুম হাসিনা বেগম, জুয়েল ও আম্বিয়া খাতুনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মহান আল্লাহ যেন মরহুমদের ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং তাদের পরিবারকে এই শোক সইবার তাওফিক দান করেন।
একদিনে পৃথক তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিহত আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।