সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৫ জুন ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৫ জুন ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা

 রোববার (১৪ই জুন) রাজশাহী পুলিশ লাইনস এর পিওএম কনফারেন্স হলে “বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন” এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ধারাবাহিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর এই কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগ/রেঞ্জের ৮৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ একত্রিত হন।

কর্মশালায় অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অর্থ), পুলিশ সদর দপ্তর আতিয়া হুসনা সকল সম্মানিত অতিথিকে তাদের মূল্যবান সময়ের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন “বাংলাদেশ পুলিশ একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার নারী পুলিশ সদস্য কর্মরত। এ সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা ও নেতৃত্ব উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিপিডব্লিউএন  শুরু থেকেই এ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের কর্মশালা তারই ধারাবাহিকতা।”

বিপিডব্লিউএন প্রতিনিধিবৃন্দ বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ক্ষেত্রগুলো, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করেন। ইউএন উইমেন প্রতিনিধি কর্মশালায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি, উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), রাজশাহী রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ, পুলিশ কর্মশালার উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “নারী কর্মকর্তাদের তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। পেশার প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকারবোধ ছাড়া প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানকেও তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।”

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর প্রতিনিধি লায়লা জাসমিন বানু  উপস্থিত  অতিথিদের ও বিপিডব্লিউএন এর কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় এই বিপিডব্লিউএন এর কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রথম কৌশলগত পরিকল্পনায় আপনাদের অর্জনই তার প্রমাণ। “

ইউএন উইমেন এবং বিপিডব্লিউএন নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে, যার মধ্যে বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত।

অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনা চলাকালীন যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, বিদ্যমান যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলো পুনরুজ্জীবিতকরণের উপর গুরুত্ব দেয়া সহ বাহিনীর সকল সদস্য এ সম্পর্কে জানানোর কথা বলেন।  এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা  প্রযুক্তি-নির্ভর সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধির সুপারিশ করেন।

উল্লেখ্য, ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন-এর সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশে চলমান  “এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেসেস, ওয়ার্কপ্লেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ঊঝএইঠ)” প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত।

উল্লেখ্য যে সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মো. ফয়েজুল কবির উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।