সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

গৃহপালিত পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস বানান কসাই রিপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন
গৃহপালিত পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস বানান কসাই রিপন
কশাই রিপন আলীর তৈরি পশুর মাথা ও শিংয়ের বিভিন্ন নান্দনিক শোপিস

রাজশাহীর রিপন আলী পেশায় একজন কসাই হলেও তার নেশা পশুর হাড় ও শিং দিয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম তৈরি করা। গত এক দশক ধরে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিত্যক্ত মাথা সংগ্রহ করে সেগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নান্দনিক শোপিসে রূপ দিচ্ছেন তিনি। মাটি বা কাঠের প্রথাগত শোপিসের বাইরে গিয়ে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে এই বিশেষ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেছেন ৪০ বছর বয়সি রিপন আলী। বর্তমানে তার সংগ্রহে ১০০টিরও বেশি শৈল্পিক শোপিস রয়েছে। একটি কক্ষে তিনি পশুর এসব শিং ও মাথা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী।


রিপন আলীর এই ব্যতিক্রমী যাত্রার শুরুটি মোটেও সহজ ছিল না। রাজশাহীর শালবাগান কসাইপট্টিতে কাজ করার সময় একদিন একটি মহিষের বিশাল শিং দেখে তার মাথায় এটি সংরক্ষণের চিন্তা আসে। বন্ধুদের পরামর্শে এবং নিজের ১০ বছরের মেধা ও একাগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে ২০১৭ সাল থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু করেন। রিপন জানান, তিনি সব ধরনের মাথা নেন না; কেবল যেসব পশুর শিং দেখতে আকর্ষণীয়, সেগুলোই সংগ্রহের জন্য বেছে নেন।


এই শিল্পকর্ম তৈরির সঠিক পদ্ধতি বা প্রসেস জানার জন্য রিপন আলী অনেক বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে কেউ তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দমে না গিয়ে কয়েক বছর নিজের প্রচেষ্টায় তিনি পশুর মাথা ও শিং পচনমুক্ত করে শোপিসে রূপান্তরের কৌশল উদ্ভাবন করেন। শুরুর দিকে পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ ও অর্থ ব্যয়ের কারণে পরিবার ও প্রতিবেশীদের উপহাস সইতে হলেও এখন দৃশ্যপট বদলেছে। এখন তার পরিবার এবং দর্শনার্থীরা এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন।


রিপন আলী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কেবল বাজার থেকে কেনা গৃহপালিত পশুর (গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া) মাথা ব্যবহার করেন। বাঘ বা হরিণের মতো কোনো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অঙ্গ তিনি স্পর্শ করেন না। তার মূল লক্ষ্য হলো এই শিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়া। তিনি মনে করেন, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি এসব শোপিস যদি সহজলভ্য হয়, তবে মানুষ বন্যপ্রাণী নিধন করে ঘর সাজানোর প্রবণতা থেকে সরে আসবে। এতে বন্যপ্রাণী হত্যা রোধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছেন এই শিল্পী।