সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

কাদা পানিতে নিমজ্জিত নাটোর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল

নাটোর প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
কাদা পানিতে নিমজ্জিত নাটোর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল

কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় অবস্থিত ঢাকা-গামী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করলে এটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল, তা বোঝার উপায় নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।


মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বিভিন্ন  স্থানে সরেজমিনে  দেখা যায়, টার্মিনালের অধিকাংশ অংশ কাদামাটিতে ভরে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় যাত্রীদের কষ্ট করে বাসে উঠতে ও নামতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাসের পর মাস জমে থাকে এই পানি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক যাত্রী কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতেও পড়ছেন।


নাটোর পৌরসভা সূত্রমতে, নাটোর শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় হরিশপুর বাস টার্মিনালটি ২০০৭ সালে নির্মিত হয় এবং তখন থেকেই এটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৪ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাস টার্মিনালটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৮০টি বাস রাখা যায়। প্রতি বছর বাস টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়, এবছরও ৪৯ লক্ষ টাকার বেশী ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছারা টার্মিনালে যত কাউন্টার এবং দোকান ঘড় আছে প্রতিমাসে এক থেকে দুই হাজার টাকা ভাড়া আদায় হয়।   


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হলেও দিন দিন  অব্যবস্থাপনা, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন সময় ক্ষমতার জোরে অভৈধ দখল করে দোকান ঘর নির্মান এবং কাউন্টারের সামনে  ড্রেন ভরাট করে সিড়ি নির্মান করা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এমন অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।  


জেলার সিংড়া উপজেলার বামন গ্রামের যাত্রী সুশীল চন্দ্র পাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবার খরা মৌসমে ধুলা-বালিতে চলা ফেরা কঠিন হয়ে যায়। 


অথচ এটি রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাস টার্মিনাল।


হানিফ কাউন্টারের ম্যানেজার কোরবান আলী জানান, বর্ষা মৌসম শুরুই হয়নি, এখনি টার্মিনালে প্রবেশ করা যায় না। আমাদের লাইনে ৭টি ভিআইপি কাউন্টার আছে কোনমতে সিড়ি দিয়ে লোকজন আসে কিন্তু গ্রামীণ ও তুহিন পরিবহণ 


পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসমালিকরা বলেন, কাদা ও পানির কারণে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এতে পরিবহন ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই বিষয় বহুবার বলে বলে কোন লাভ হয়নি, এমকি জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে বিষয়টি বলা হয়েছে প্রতিকার হয়নি।  এজন্য বলা বাদ দিয়েছি আর কাকে বলবো? দ্রুত টার্মিনাল সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং চলাচল উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে বছরের পর বছর ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।


এব্যাপারে নাটোর পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফ হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি তবে পৌর সচীব আমিনুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, কিভাবে সুন্দুর করা যায় যাতে  যাত্রীদের ভোগান্তিতে পরতে না হয় সেই দিকটি গুরুতত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।     


নাটোরের গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা শুধু যাত্রী দুর্ভোগই নয়, বরং জেলার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।