সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পুঠিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

পুঠিয়া প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পুঠিয়া প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
পুঠিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, বসতভিটার জায়গা দখল, পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া এবং গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১২ জুন সকাল ১১টার দিকে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।


ভুক্তভোগী রাসন্তি জানান, পৈতৃক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও প্রতিপক্ষের লোকজন এসে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। কাকলি নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বসার কথা থাকলেও তারা কোনো আলোচনা না করে বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু লুটপাট করে। আমাদের কাছে জমি ক্রয়ের বৈধ দলিল রয়েছে। তারপরও তারা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে বাড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে।


প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, তিনি ও তার মেয়ের বাড়িতে থাকা অবস্থায় একদল লোক এসে কোনো কথা ছাড়াই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং মালামাল নিয়ে যায়।


ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, হামলার সময় তারা  ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধোকড়াকুল মৌজার জে.এল. নং ২০৩-এর হাল দাগ নং ৩১৭১ ও ৩১৫৭-এর মোট ৩৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। 


অভিযোগকারী সেলিনা সরকার দাবি করেন, তার দাদা শ্রী আকালু সরকার ও পরবর্তীতে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে জমির মালিকানা ভোগ করছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ পূর্বে বিক্রয়কৃত জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে নির্মিত বসতঘর ভেঙে ফেলে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ও প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযুক্ত মোস্তফা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “তারা কাগজপত্র নিয়ে আসুক, তারপর কথা হবে।” তবে তার স্ত্রী বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন।


এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনে খারাপ লাগছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।