সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দর চালু হচ্ছে
রাজশাহীর মানুষ সেই অপেক্ষাতেই
দুই বছরের অধিক সময় বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবস্থিত সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দর নতুন করে চালু করার সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে নৌ-বন্দর চালুর প্রস্তুতি-পর্ব অনেকটাই এগিয়েছে। এখন শুধু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদন পেলেই রাজশাহী অঞ্চলের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নৌ-বন্দরটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হছে। সভাতেই নৌ-বন্দর চালুর ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। বিআইডব্লিউটি-এর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বন্দরটি চালু করতে যা যা প্রয়োজন সবই করা হয়েছে উল্লেখ করেছেন। ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি বলে, এখানে নতুন করে স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে। বন্দরের জন্য জমি ২৫ বছরের ইজারা নেয়া হয়েছে। পদ্মার বেশ কিছু স্থানে ড্রেজিংও করা হয়েছে জাহাজ চলাচলের জন্য। সভার সভাপতি বিভাগীয় কমিশনারও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বন্দরটি চালু হলে এখানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। এতে অপরাধও কমে আসবে। আমরা বন্দর চালুর বিষয়ে ইতিবাচক। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বন্দর চালু করা যাবে। এতে সবাই উপকৃত হবেন।
সভার অংশিজন বিজিবি কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ কর্মকর্তা, আমদানি-রপ্তানিকারক ও রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা নৌ-বন্দর চালুর ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের উন্নয়নে উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাই বলেছেন। একই ভাবে তাদের আন্তরিকতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এতে করে ধরেই নেয়া যায়, নৌ-বন্দরটি এবারে কার্যকর করা যাবে। সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দর এবং ভারতের মায়া বন্দরের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে- যাতে করে উভয় দেশই লাভবান হবে।
নৌ-বন্দর চালুর খবরে রাজশাহীর মানুষ এবং আমদানি-রপ্তানিকারকরা উজ্জীবিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। কেননা নৌ-বন্দরটি চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, আবার পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্র সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহণ ব্যয় অনেক কমে যাবে। এমন একটি উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্ভাবনার হাতছানি আছে, এখন শুধু নৌ-বন্দরটি চালু করার অপেক্ষা। কিন্তু বিষয়টি হয়ত অত সহজ নয়- যতটা আমরা ধারণা পাচ্ছি। বলার অপেক্ষা রাখে না- বিরুদ্ধ অবস্থান থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। নৌ-বন্দর চালু হলে মাদক চোরাচালানের প্রবণতা অধিক বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু এটা কি বলা যায়, দেশের আর বন্দরগুলো দিয়ে মাদক চোরাচালান হয় না? এটি ব্যবস্থাপনাগত বিষয়। ব্যবস্থাপনা ত্রুটিমুক্ত করা গেলে চোরাচালানও মুক্ত করা যাবে। সম্ভাবনার সবটুকুই যাতে করে অর্জন করা যায়- সেদিকেই বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয় হবে। এনবিআর অনুমোদন দিলেই ন্যে-বন্দরটি চালু হয়ে যাবে- এটা দারুণ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিবে। আমরা নিশ্চিত হতে চাই- নৌ-বন্দরটি অবশ্যই চালু হবে, এ অঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে; এই চাওয়া এ অঞ্চলের মানুষের অধিকারও বটে।