মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

নগরীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা

সোনার দেশ ১৯ জুন ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৯ জুন ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন
নগরীতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা

অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

ফুটপাতের বেশির ভাগটাই যদি হকারদের দখলে চলে যায়, তা হলে পথচলতি মানুষদের কী হবে? শুধু ফুটপাত নয়, মহানগরীর রাস্তায় মার্কিং করে চার চাকা গাড়ির পার্কিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একসময়ের পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও ‘সুখী নগরী’ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর শান্ত নগরজীবন এখন অপরিকল্পিত দখলদারিত্বের কারণে বিপর্যস্ত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের অজুহাতে নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারী ও মেডিক্যাল কলেজসংলগ্ন এলাকার ফুটপাতগুলো এখন হকার, দোকানের মালামাল ও নির্মাণসামগ্রীর দখলে।


ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে ব্যস্ত প্রধান সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, চলমান ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের কারণে সড়ক সঙ্কুচিত হওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার মহানগরীর ঐতিহ্য (ঘোড়া) চত্বর থেকে বন্ধগেট এলাকা পরিদর্শনে নামেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন।


তিনি ফ্লাইওভারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি ফুটপাত থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। প্রশাসক বলেন, ‘ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তবে প্রশাসনের এমন উচ্ছেদ অভিযান রাজশাহীতে কেন বারবার ব্যর্থ হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকির অভাব, বিকল্প পুনর্বাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, জনসচেতনতার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক-সামাজিক চাপের কারণেই উচ্ছেদের কিছুদিন পর ফুটপাত আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে যায়। 


অভিযান সম্পর্কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজটও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে এবং নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘নগরবাসীর স্বার্থে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ পুনরায় অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসীরা।


ফুটপাতে ব্যবসা করে একটি বড় সংখ্যার মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী কোন উন্নত দেশের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। ফুটপাত মুক্ত রাখতে ঐ সকল দেশ কি ব্যবস্থা নেয় সেই বিষয়ে ভেবে দেখতে পারে। তাই সুপরিকল্পিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা বা দীর্ঘমেয়াদী কঠোর তদারকি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে।