বিদ্যুৎ পরিস্থিতি
লোডশেডিঙের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ দিন
খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানোর পরও রাজশাহী অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। বরং তীব্র দাবদাহে গ্রামাঞ্চলে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানুষজন। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের লোকজন বলছেন, ১৭-১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সোনার দেশ পত্রিকায় ‘বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন’-শিরোনামে একটি প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। সেখানে উল্লেখ্য যে, দুই মাসের ব্যবধানে রাজশাহীতে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিঙের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুতের দাম বাড়ার পরও ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ৩৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের তথ্য জানানো হলেও মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
দিনের অর্ধেকের বেশি সময়ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। সরকারি হিসেবে ঘাটতি কম দেখানো হলেও, রাজশাহী অঞ্চলের গ্রাহকদের ঘরে দিনে-রাতে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দাবদাহে এমনিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত। এর মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। গরমে দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা বেশি, সেই সময়েই সরবরাহ কমে যাওয়ায় জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি শিল্পকারখানায় উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত কারণে দেশে হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি না হওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতির উত্তরণ হবে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট কারও কাছে নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় লোডশেডিঙের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তারা।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, গরম বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এ অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই। তবে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ায় চাহিদা কমবে। এতে লোডশেডিঙের পরিমাণও কমবে।
গরম কমলে কিংবা বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। জ্বালানি খাতে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও যদি প্রকৃতির খেয়ালের ওপর নির্ভর করতে হয়, তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?
তাই সঞ্চালন লাইন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের সরবরাহও ঠিক রাখতে হবে। মানুষ দিনে এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা হয়তো সহ্য করতে পারে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে পারে না। এই প্রচণ্ড দাবদাহের দিনে জনজীবন ও শিল্পকারখানাকে লোডশেডিঙের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ দিন। আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি পরিহার করে মাটির নিচে থাকা গ্যাস সম্পদ আহরণের মাধ্যমে এই খাতকে স্বাবলম্বী করতে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিন।