সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রাকসু জিএসের বিরুদ্ধে হল সংসদের জিএসকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

রাবি প্রতিবেদক ১৮ জুন ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ১৮ জুন ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ন
রাকসু জিএসের বিরুদ্ধে হল সংসদের জিএসকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ
সালাহউদ্দিন আম্মার। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নুরুল ইসলাম শহিদ এই অভিযোগ করেন। তবে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

​ফেসবুক পোস্টে নুরুল ইসলাম শহিদ লিখেছেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি এবং তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। সেখানে দর্শকদের সঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন খেলার প্রায় ৩০-৩১ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হলের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে এসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। প্রথমে যেতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এলইডি স্ক্রিনের পাশের একটি নির্ধারিত স্থানে যান, যা সুতা দিয়ে ঘেরা ছিল। সেখানে ভিপির পাশে বসে খেলা দেখতে শুরু করি।

তিনি লিখেছেন, খেলা দেখার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং রাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি সেখানে আসেন। এ সময় ভিপি একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য স্থান ত্যাগ করেন। ভিপি সরে যাওয়ার পরপরই সালাউদ্দিন আম্মার তাকে সেখান থেকে উঠে যেতে বলেন। তিনি কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে বলতে থাকেন যে সেখানে কেউ থাকতে পারবে না এবং তাকে সেখানে দেখলে অন্যরাও আসতে চাইবে। পুরো সময় তিনি তার পোশাক ধরে টানাটানি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের স্থান থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় সহ-ক্রীড়া সম্পাদকও উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল ইসলাম শহীদ আরও লিখেছেন, এরপর তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে তিনি নিজ উদ্যোগে সেখানে যাননি কিংবা কাউকে সেখানে যাওয়ার অনুরোধও করেননি; বরং তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে এ ধরনের আচরণ বা বেয়াদবি সবসময় মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিপি সেখানে ফিরে আসেন। শহীদ ভিপি জাহিদকে বলেন যে আজকের পর থেকে ভবিষ্যতে রাকসু’র কোনো কার্যক্রমে তিনি অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী নন, কারণ এ ধরনের ব্যবহার তারা প্রত্যাশা করেন না। তবে ভিপি ঘটনাটির পূর্ববর্তী অংশ প্রত্যক্ষ না করেই তাকে শান্ত হতে বলেন এবং কেন শহীদ আম্মারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে তিনি তাকে সেখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নূন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, তবে স্ক্রিনের পাশে সাউন্ড বক্সের একদম সামনে থাকায় মূলত কী কথা বা গালাগালির ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্টভাবে শুনতে পাইনি। তখন মনে হয়েছিল সামান্য কোনো ঝামেলা হয়েছে। পরে ফেসবুকে তার (শহিদ) পোস্টটি দেখতে পাই।’

তবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, ‘রাকসুর আয়োজনে সবাই সমান। শৃঙ্খলার স্বার্থে আমরা চেষ্টা করেছি কোনো ঝামেলা ছাড়াই আয়োজনটি সুন্দর করার। স্ক্রিনের বাম পাশে আমাদের বোনেরা (ছাত্রীরা) বসেছিলেন। সামনে কেউ দাঁড়ালে তাঁদের খেলা দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। আমি দায়িত্ব পালনের জন্য ভেতরের এক কোনায় দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং সেখানে কাউকে আসতে দিচ্ছিলাম না।’

​তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ সে (শহিদ) আসায় পেছনের বোনদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি তাকে স্ক্রিনের ডানপাশে ভিপির সঙ্গে গিয়ে বসতে বলি। কিন্তু সে সেখান থেকে বের হয়ে গালি দিতে দিতে চলে যায়। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তার গায়ে আমি একটুও স্পর্শ করিনি বা টি-শার্টে হাত দিইনি। সে যে পরিমাণ বাজে ভাষা ব্যবহার করেছে, বড় কোনো ঝামেলা এড়াতে আমি টুঁ শব্দটিও করিনি। তার উগ্র আচরণের কথা ক্যাম্পাসের সবাই জানে।’