সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

অপহরণের পর শিশু হত্যা: বগুড়ায় ৫ জনের প্রাণদণ্ড

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ জুন ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ জুন ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন
অপহরণের পর শিশু হত্যা: বগুড়ায় ৫ জনের প্রাণদণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় রিফাত হোসেন নামের আট বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে হত্যা এবং মরদেহ গুমের মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।


রোববার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর জানান।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল।


রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া ঘটনার সময় নাবালক ছিল এমন আরও পাঁচ আসামিকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


রায় ঘোষণার সময় মামলার ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।


মামলায় বলা হয়েছে, নিহত রিফাত হোসেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। মামলার আসামিরা সবাই রিফাতের পরিবারের প্রতিবেশী ও পরিচিত।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আসগর বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকালে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের


তিনদিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক ১১ জনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা গেলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।


মামলার বরাতে আলী আসগর বলেছেন, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন।


এনামুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকালেই রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।


রায়ে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাদের সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিটি ধারার আওতায় অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রিফাতের বাবা এনামুল হক বলেন, “আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ