রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

বগুড়ায় সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

বগুড়া প্রতিনিধি ২১ জুন ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ২১ জুন ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
বগুড়ায় সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

বগুড়ার শেরপুরে সরকারি রাস্তার ৫টি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরগাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম একই গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় সদস্য। তবে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে শুরু করেছে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ির কারণে। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান নিজে গাছ কেটে তার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন বলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আরিফুল দাবী করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে রাতে ঝড়ে মির্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরগাড়ী রাস্তার মাথায় ৫টি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ উপড়ে পড়ে। ইদের ছুটির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগ নেন যুবদল সদস্য আরিফুল ইসলাম সরকারি রাস্তার ওই গাছগুলো কেটে সরিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আরিফুলের বাড়িতে গিয়ে কাটা গাছের কিছু অংশ দেখতে পান। এলাকাবাসীর দাবি, কেটে নেওয়া ওই ৫টি গাছের বাজারমূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা। আরিফুল ইসলাম প্রথমে গাছগুলো কেটে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার কথা বললেও, পরে তা নিজেই আত্মসাৎ করেন।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবদল সদস্য আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সরকারি গাছ কাটিনি। ইউপি সদস্য মজিবর রহমান নিজেই গাছ কেটে এখন আমার নাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমার অন্য জায়গার গাছ কেটেছি এবং তার কিছু অংশ বাড়িতে এনে রেখেছি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা কেন তার নাম বলছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বলেন, গাছ কাটার সময় আমি সেখানে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, হয়তো এ কারণেই স্থানীয়রা আমার নাম বলছেন।


এদিকে পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, আমি গাছ কাটার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আরিফুল ইসলাম নিজেই সরকারি গাছ কেটে এখন বাঁচার জন্য আমার নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।


মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার খবর আমি পেয়েছি। স্থানীয়রা সবাই বলছে আরিফুল ইসলামই গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা। সরকারি সম্পত্তি এভাবে একজন ব্যক্তি কীভাবে আত্মসাৎ করতে পারে? বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা ফরেষ্ট রেঞ্জার সালাউদ্দিন পারভেজ জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।