নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সম্মানিত পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় মহানগরীতে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চন্দ্রিমা, এয়ারপোর্ট, কর্ণহার, পবা থানা পুলিশ এবং কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ি পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নারীসহ মোট ৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- পবা থানার সারাংপুর গ্রামের মো. আব্দুল মজিদের ছেলে মো. সোহাগ ইসলাম (৩০), কাটাখালী থানার হাজরাপুকুর গ্রামের মো. মইনুদ্দীনের ছেলে মো. তামিম আলী (২২), চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে রানা আলী (৫৫), বোয়ালিয়া থানার শিরোইল দোশর মণ্ডলের মোড় এলাকার মৃত সুফি বরকতে-ই-খোদার ছেলে এবং বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানার দৌলতপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা সুফি রুবায়েত (২৬), এয়ারপোর্ট থানার দৌলতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. রাকিবুর আলমের ছেলে মো. মাহাবুর ইসলাম (২৩), কর্ণহার থানার বিলধরমপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে মো. টিয়ারুল ইসলাম ওরফে আশরাফুল (৩৮), রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম বাজার এলাকার মো. লিয়াকত আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৬) এবং পবা থানার পশ্চিম পুঠিয়াপাড়া গ্রামের মো. গণি আমিনের স্ত্রী মোছা. মিরা খাতুন (৩০)।
পলাতক আসামি হলেন-কাশিয়াডাঙ্গা থানার গোলজারবাগ গুড়িপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে মোছা. রোজিনা খাতুন ওরফে রুবি ওরফে রুজি (৪০)।
গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা এলাকা থেকে সোহাগ ইসলাম, তামিম আলী ও রানা আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের বায়া পাঁচবিল্ডিং মোড় এলাকা থেকে সুফি রুবায়েত ও মাহাবুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কর্ণহার থানার বিলধরমপুর গ্রাম থেকে টিয়ারুল ইসলাম ওরফে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া ২০ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার গোলজারবাগ গুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ সময় তার সহযোগী আসামি রোজিনা খাতুন ওরফে রুবি ওরফে রুজি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অপরদিকে একই দিন রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে পবা থানার পশ্চিম পুঠিয়াপাড়া এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মোছা: মিরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেহ তল্লাশি করে তাদের হেফাজত থেকে ৭ পিস ট্যাপেন্টাডল, ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক সংরক্ষণ, বহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত ১টি মানিব্যাগ, ১টি মোটরসাইকেল ও ১টি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পাশাপাশি মাদক বিক্রির নগদ ১ হাজার ৩০ টাকা উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুলের বিরুদ্ধে আরএমপির কর্ণহার থানায় ২টি ও রাজশাহী জেলার তানোর থানায় ২টি মাদক মামলা চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।