শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর খবরে কলকাতা নিউ মার্কেটে খুশির জোয়ার

সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ জুন ২০২৬ ০৭:৫৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ জুন ২০২৬ ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর খবরে কলকাতা নিউ মার্কেটে খুশির জোয়ার
কলকাতা নিউ মার্কেট। ছবি: সংগৃহীত

২২ মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণায় হাসি ফুটে উঠেছে কলকাতার নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মুখে। বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকতে থাকা কলকাতার নিউ মার্কেটে বন্ধ হয়েছে একের পর এক মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার, হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা।


দীর্ঘ দু’বছর করোনা ভাইরাসের দাপট। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ধীরে ধীরে কলকাতার নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলে নিউ মার্কেটের অর্থনৈতিক ক্ষত আরও গভীর হয়। এক পর্যায়ে নিউ মার্কেট এলাকার সেন্টমার্টিন পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ হয়ে সেখানে শুরু হয় জামাকাপড়ের ব্যবসা।


শুক্রবার (২৬ জুন) দেখা যায় সেই ব্যবসাও লাটে উঠেছে। নিউ মার্কেটের ২০০টি আবাসিক হোটেলের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ৩৯টি। রীতিমত অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে বাকি হোটেলগুলো। বন্ধ হয়ে যায় অন্তত দশটি মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার। মেডিকেল ভিসা পুরোদমে চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি বিগত কয়েক মাসে কিছুটা বদলালেও ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় নিউ মার্কেটের পুরাতন জৌলুস আর ফেরেনি।  


এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দেয় ভারতীয় হাইকমিশন। এরপর থেকেই ‘মিনি বাংলাদেশ’খ্যাত কলকাতার নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ৮টি পরিবহন সংস্থা যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা পরিচালনা করত। যাত্রীর অভাবে একসময় প্রতি আট দিনে একবার করে রোটেশনে আটটি সংস্থার বাস চলত। এ ঘোষণায় পরিবহন সংস্থাগুলোও আশাবাদী হয়ে উঠেছে। গ্রীনলাইন পরিবহনের ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘‘আমরা আগে এই অফিসে ৮ থেকে ৯ জন কাজ করতাম। এখন চারজন আছি। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে ব্যবসা বাড়বে। আমরা খুবই খুশি। হয়তো বাকিদের আবার দরকার পড়বে।’’


কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছেই হগ মার্কেট। এই মার্কেটে বহুজাতিক সংস্থার খুচরো ও হোলসেল কসমেটিক্স বিক্রি করেন মনিকা পাল। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার খবরে রীতিমত উচ্ছ্বসিত এই নারী বিক্রেতা বলেন, ‘‘আমাদের এই নিউ মার্কেট চত্বরের ব্যবসা গোটাটাই বাংলাদেশি পর্যটক নির্ভর। বাংলাদেশি ক্রেতা আমাদের কাছে এলে আমাদের একসঙ্গে অনেক টাকা লেনদেন হয়। এতদিন ভিসা বন্ধ ছিল, ব্যবসা  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে আমাদের ব্যবসা বাড়বে, সেল বাড়বে, সবকিছু আগের মতো চলবে।’’


‘‘নিউ মার্কেট এলাকায় শুধু আমার ব্যবসা নয়, হোটেল ব্যবসা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ বা যে কোনও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশিরা খুব ছোটখাটো লেনদেন করেন না। আমরা আশাবাদী আমাদের রিটেল এবং হোলসেল দুটো ব্যবসাই আগের মত চলবে,’’ যোগ করেন তিনি। 


নিউ মার্কেট এলাকার পাইকারি মসলা বিক্রেতা মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘‘নিউ মার্কেট ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট সারা পৃথিবী থেকে ট্যুরিস্ট এলে তারা জানে। নিউ মার্কেটের লোকেশন এবং এখানে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। মসলা, কাপড়, ওষুধ সব পাওয়া যায়। ট্যুরিস্ট এলে দিনশেষে তারা যে টাকা এখানে খরচ করবে সেটা ভারতীয় অর্থনীতিতেই কাজে লাগবে।’’


শেষ দুই বছর কলকাতার অর্থনীতি সব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘‘ভারত সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার হাতছাড়া করেছে। দুই বছর বন্ধ রেখে কি লাভ হয়েছে সেটা একমাত্র হাই লেভেল অথরিটি বলতে পারবে। কার বুদ্ধিতে ভিসা বন্ধ হয়েছিল জানি না, তবে অর্থনীতিতে অনেক বড় ক্ষতি করে গিয়েছে।’’


আরেক ব্যবসায়ী মহসিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমাদের ট্যুরিস্ট এলাকার মধ্যে মার্কেট, এখানে এত প্রভাব পড়েছে আপনারা চিন্তা করতে পারবেন না। অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে দোকান চালাতে পারছেন না, স্টাফেরা বসে আছে। আমাদের সরকার এখন যদি কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরা খুশি। ব্যবসা হলেই তো আমাদের সবকিছু চলবে, না হলে চলবে কীভাবে?’’


‘‘গত দুই বছর ব্যবসা একেবারেই নেই। গেস্ট হাউস খালি যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এক হাজার রুপির রুম আমরা তিন-চারশ  রুপিতেও ভাড়া দিয়েছি। এখন যদি পরিস্থিতি ভালো হয় তাহলে দুই দেশের জন্যই ভালো,’’ বলেন হোটেল ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ। 


নিউ মার্কেট এলাকায় মেডিকেল ব্যবসায়ী কামরুদ্দিন মল্লিকও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার সংবাদ শুনে খুশি। নিজে থেকেই বললেন, ‘‘মেডিকেল ভিসা চালু থাকার পরেও ব্যবসার ৬০ শতাংশ নেই। আমাদের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, নিউমার্কেট শুধু নয়, বাইপাসের ধারের হাসপাতাল কিংবা মুকুন্দপুর হাসপাতাল কোথাও ব্যবসা ছিল না। এত বড় প্রতিষ্ঠান চালু করে রাখা খুব কঠিন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের সিদ্ধান্ত শোনার পর আমরা খুবই খুশি।’’ 


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি