রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ঈশ্বরদীর স্কুলে তিন শিক্ষিকাকে মারপিট

সোনার দেশ ২৯ জুন ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৯ জুন ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীর স্কুলে তিন শিক্ষিকাকে মারপিট

দোষিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খবর মাঝেমধ্যেই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। আইন আছে, বিধান আছে- তারপরও এক শ্রেণির শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শাস্তির পক্ষেই থাকেন এবং তারা সে কাজটি করেনও। আবার কিছু অভিভাবকও আছেন যারা মনে করেন শিক্ষার্থীদের ভাল শিক্ষা দিতে হলে শিক্ষকদের কঠোর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এসব ক্ষেত্রে দেশের আইনের লঙ্ঘন হয়। আবার এমন ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের সাধারণ শাসনের ঘটনায় অভিভাবকদের চড়াও হতে, শিক্ষকদের মারপিট করতে। উভয় ক্ষেত্রেই আইন দারুণভাবে উপেক্ষিত হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনের প্রয়োগ খুব কমই হয়। 


পাবনার ঈশ্বরদীতে এমনই এক ঘটনার খবর সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যমতে, শিক্ষার্থীকে ধমক দিয়ে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ৩ শিক্ষিকাকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। এক সহকারী শিক্ষিকাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করলে করা হয়। ২৫ জুন ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুড়ুলিয়া গ্রামের ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষক সমাজের পক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। এই ঘটনা উদ্বেগজনক এবং শিক্ষার পরিপন্থি কাজ। 


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া আইনত দণ্ডনীয়। ২০১১ সালে হাইকোর্টের এক রায়ের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে সঠিক শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা।


তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শাসনের মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই তাদের শাস্তি দেয়া নয়, বরং সঠিক পথে পরিচালিত করা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়তা করা। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শাসনের প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে তা কোনো ভাবেই শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ভুক্ত না হয়। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় অমনোযোগী না হয় এবং নিয়মিত বাড়ির কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে, তার জন্য শিক্ষকের ইতিবাচক শাসন ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি। 


সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে তিন শিক্ষিকার ওপর যে ধরনের বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়েছে তা শিক্ষা-শৃঙ্খলার জন্য খুবই বিপজ্জনক। আইন হাতে তুলে নিয়ে সন্ত্রাসী ঘটনা এ ভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। এর সাথে জাড়িত যে বা যারাই হোক না কেন তাওেদর আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।