ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩৩৪২
ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
রোববার মন্ত্রণালয়টির প্রকাশ করা নতুন তথ্যে দেখা গেছে, মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪৭০ জনে আর গৃহহীনের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৩৪৫ জন হয়েছে।
এ দিন ভেনেজুয়েলার ২১৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পের পর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন এবং জরুরি প্রয়োজন ও দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সামরিক বাহিনীর একটি নতুন ইউনিট গঠন করেছেন।
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ব্যাপক দুর্যোগের মুখে সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ ও সাড়া নিয়ে দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হতাশা ও ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমিকম্পের পর তার সরকার খুব ধীর গতিতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে ওঠা সমালোচনাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
শনিবার দেশটির সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সাহায্য করতে ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে মোতায়েন করা হয়েছে আর তাদের পাশাপাশি ৩২৮১ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, গৃহহীনদের অনেকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে থাকছেন আর বাকিরা অস্থায়ীভাবে তৈরি করা তাঁবু শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন। বেসরকারি কিন্তু ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা এক পরিসংখ্যানে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার জনেরও বেশি।
২৪ জুন প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ও ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ উপকূলীয় অঞ্চল ও শহরগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খননকাজ চালানো অনেকেই এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, ভূমিকম্পের পর থেকে সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল ধীর ও অকার্যকর। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবার ও চিকিৎসা সামগ্রীর মতো সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হয়েছে আর অনুসন্ধান অভিযানের মধ্যে ধ্বংসাবশেষ সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতির অভাব রয়েই গেছে।
ভূমিকম্পের পর থেকে টানা দুই দিন সাত ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকার পর উদ্ধার পাওয়া হুয়ান জাপাতা তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি ফিল্ড হাসপাতালে নিজের খাটের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, নিজের পঞ্চম তলার অ্যাপার্টমেন্টে মাত্রই রাতের খাবার খেয়ে জানালা দিয়ে ক্যারিবীয় সাগরের দিকে তাকিয়ে গোসল করে নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তখনই জোড়া ভূমিকম্পের প্রবল তোড়ে তিনি ঘরের এপাশ থেকে ওপাশে ছিটকে পড়তে থাকেন।
তিনি বলেন, “তারা যখন আমাকে উদ্ধার করছিল আমি বললাম, “আমি পঞ্চম তলায় আছি’, কিন্তু তারা আমাকে বলল, ‘না, তুমি নিচের বেসমেন্টে আছ’। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমার কী হয়েছে।”
প্রায় আড়াই দিন ধরে বেসমেন্টে লোহার দুটি রডের মধ্যে আটকে থাকা জাপাতাকে উদ্ধার করেন বেসামরিক উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার পাওয়ার পর প্রথমে লা গুয়াইরার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কোস্তা ব্রাভায় নিজের ভবনটি দেখতে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেখানে গিয়ে শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখতে পান।
তার বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে, শরীরের অনেক জায়গায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। তার দুই পায়ে ব্যান্ডেজ আর এখনও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে এখন ফিল্ড হাসপাতালে আছেন তিনি আর ধীরে ধীরে সেড়ে উঠছেন।
“আমার সব সম্পদ গেছে, কিন্তু খোদা আমাকে স্বাস্থ্য দিয়েছেন,” বলেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ