‘ভারতের সাহায্য প্রয়োজন’, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের নেতার আকুতি
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনাভিযান ও অর্থনৈতিক অবরোধের অভিযোগ তুলে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান।
কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের দমন করতে ইসলামাবাদ রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করেছে জানিয়ে তিনি নয়াদিল্লিকে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।
একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আমান খানকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, আমাদের আপনাদের সাহায্য দরকার।”
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন তীব্র হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যা সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে আমান খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত কি না। জবাবে সমবেত জনতা বারবার চিৎকার করে বলে, “সামনে এগিয়ে চলুন।”
আমান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি জনগণের ন্যায্য দাবির জবাব বুলেট দিয়ে দেয়, তবে “আমাদের সামনেও অন্য পথ খোলা আছে।”
একইসঙ্গে তিনি পুঞ্চ ও দোদা সেক্টরে এলওসি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ৩০ জুনের ওই সমাবেশের ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
গত মাস থেকে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যাতে ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
গত সপ্তাহে ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত জনতা “পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়” এবং “আমরা স্বাধীনতা চাই” বলে স্লোগান দেয়।
স্থানীয় কিছু সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদের অনুগত ও ‘ক্ষমতাহীন’ আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। গত ৫ জুন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তৃণমূল স্তরের এই জেএএসি সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করার পর এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।
‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করেছে।
এমনকি ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, পিওকে ও গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচনে বরাবরই সেই দল জয়ী হয়, যা কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ