শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

‘১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে তাক করা, আমাকে খুনের চেষ্টা করলেই গোলাবর্ষণ’!

সোনার দেশ ডেস্ক ১১ জুলাই ২০২৬ ০১:২১ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১১ জুলাই ২০২৬ ০১:২১ অপরাহ্ন
‘১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে তাক করা, আমাকে খুনের চেষ্টা করলেই গোলাবর্ষণ’!
ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে তাক করা আছে। সেনাবাহিনীকে নির্দেশও দেওয়া আছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে হত্যার কোনও রকম চেষ্টা হলেই ইরানের উপর গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে যাবে, জানিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য আমেরিকার সামরিক বাহিনী আপাতত এক বছরের সময়সীমা ধরে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো হবে।

শনিবার সকালে (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমের হুঁশিয়ারিতে ইরানকে নিশানা করেছেন ট্রাম্প। দাবি, ইরান বিশ্বের নানা প্রান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে। তা যদি কার্যকর করার চেষ্টাও হয়, তবে পরিণতি ভাল হবে না। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দিকে তাক করে রাখা হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে (এ ক্ষেত্রে আমি) হত্যা বা হত্যার চেষ্টার যে হুমকি বিশ্বের নানা প্রান্তে তারা দিয়ে আসছে, তা যদি কার্যকর করা হয়, আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাদের মাটিতে আছড়ে পড়বে। নির্দেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়ে গিয়েছে। ইরানের সমস্ত এলাকা সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস এবং নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত। প্রাথমিক ভাবে এই কার্যক্রমের মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা আরও বাড়ানো হতে পারে।’’

২৪ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ খোলার কথা ঘোষণা করে বিবৃতি চাই! ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিল আমেরিকা, অন্যথায় কী?

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বহু দিন ধরেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। যদি তা করা হয়, ইরানকে কী ভাবে জবাব দিতে হবে, মার্কিন আধিকারিকদের সেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন তিনি। বোমা ফেলে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বলা হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটিকে। ওই সাক্ষাৎকারের পর ট্রাম্প নিজেই সমাজমাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন।

আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর সে দেশে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের জমায়েতে অনেকেই প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে হত্যার দাবি জানিয়েছেন। পোস্টার, ব্যানার নিয়ে যাওয়া হয়েছে জমায়েতে। এর মধ্যেই ইজ়রায়েলের একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়, ইরান ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে তুরস্ক সফর থেকে ফেরার সময় বিমান বদল করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসও পরে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। পর পর ঘটনাপ্রবাহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট— ট্রাম্পকে হত্যার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজেও তাই হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন। এমনকি, হত্যা-পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও নির্দেশ দিয়ে রাখছেন তিনি।

সপ্তাহ তিনেক আগে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যে সমঝোতার মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তাতে দু’মাসের সংঘর্ষবিরতির কথা বলা হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজের উপরে তার পরেও হামলা হয়েছে। তার জন্য দু’পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, সংঘর্ষবিরতি শেষ। তবে আলোচনাও চলছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন