রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শিশু হাসপাতাল

সোনার দেশ ১১ জুলাই ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১১ জুলাই ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন
সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শিশু হাসপাতাল

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় অনিশ্চয়তা কাটলো

দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি শিশু হাসপাতালকে ‘বিশেষায়িত হাসপাতাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। বুধবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত হাসপাতালগুলো হলো-রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া এবং বরিশাল শিশু হাসপাতাল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিশেষায়িত হাসপাতালের মর্যাদা পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন এবং শিশুস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গতি আসবে। এতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিপুল ব্যয়ে নির্মিত কিছু শিশু হাসপাতাল বছরের পর বছর অব্যবহৃত ও তালাবদ্ধ পড়ে আছে; এরমধ্যে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল অন্যতম। চালু থাকা হাসপাতালগুলোতেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া আইসিইউগুলোতে ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ শিশুদের চিকিৎসায় একটি বড় বাধা।

দেশের শিশু হাসপাতালগুলো মূলত প্রশাসনিক জটিলতা, প্রয়োজনীয় জনবল (ডাক্তার ও নার্স) নিয়োগ না হওয়া, এবং অর্থ বরাদ্দের অভাবে এসব হাসপাতাল চালু  করাই যায়নি। তাছাড়া, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। ফলে শিশু হাসপাতালগুলো আশা জাগালেও চালু না হওয়ায় তা হতাশায় পরিণত হয়েছে। 

রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা ও সিলেটসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রায় ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো বছরের পর বছর এভাবে পড়ে ছিল। তবে সম্প্রতি এসব হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শনিবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ৫টি শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার। প্রথম পর্যায়ে বহির্বিভাগ (আউটডোর) চালুর মাধ্যমে সেবাকার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের গুরুত্ব অপরিসীম। যা শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা কত ব্যাপক এবং অপরিহার্য তা করোনাকালের পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয়। চলমান হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য শিশু হাসপাতাল সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

স্বয়ং প্রশানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন যে, পাঁচ শিশু হাসপাতাল আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আস্থার ও বিশ্বাসের। এখন এই প্রত্যাশা মোটেও উপেক্ষিত হওয়ার নয়- তা দৃঢ়তার সাথেই বিশ্বাস করা যায়।