৬ মাসে সড়কে ৩৬০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
এই মৃত্যু মিছিল থামবে কবে?
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য তুলে ধরে। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মৃত্যু-সংখ্যা ধারিাবাহিকভাবেই চলে আসছে- যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের অকাল মৃত্যু দেশের সক্ষম একটি অংশ প্রতিবছর হারিয়ে যাচ্ছে- যা রাষ্ট্রশক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ প্রতিকারে অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না।
২০১৮ সালের ২৯ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। টানা ১১ দিনের ওই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮‘ পাস করা হয়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৩৩ জন শিক্ষার্থী নিহত হন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে সারা দেশে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৭,৩৫৯ জন। ২০১৮ সালের আন্দোলন এবং আইন প্রণয়নের বিষয়টি অবশ্যই দেশবাসীকে আশান্বিত করেছিল। প্রত্যাশা ছিল- পরিবহন খাতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আসলে পরিস্থিতি আগের মতোই আছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৩২০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বাকি ছয় মাসে মৃত্যুহার কমবে এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। সড়কের নিরাপদতা নিয়ে কোনোভাবেই আশান্বিত হওয়া যাচ্ছে না। যে সব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়- সেগুলো চিহ্নিত হয়ে আছে। সমস্যা হলো সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে আছে- এমন অভিযোগ অনেক পুরান। এর ফলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক এবং দেশের মানুষ একে অপরকে প্রতিপক্ষ করে তুলেছে। সরকার যে পরিবহন খাতের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করবে- সে ক্ষেত্রেও তারা দুর্বলতাই দেখিয়ে আসছে। অথচ সরকারেরই দায়িত্ব সব পক্ষের মধ্যে দায়মূলক সম্পর্ক তৈরি করা।
উন্নত দেশগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, দুই চাকার যানবাহন চার চাকার তুলনায় অন্তত ৩০ গুণ ঝুঁকিপূর্ণ। আর বাংলাদেশে এ হার তো অবশ্যই আরো বেশি। উন্নত দেশগুলো যেখানে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল নেয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ করা। বিক্রেতাদের ইনসেন্টিভ দেয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে ৩৫০ সিসির মোটরসাইকেল অনুমোদনের। দেশের যে সড়ক ব্যাবস্থা তাতে ৩৫০ সিসি যে ব্যাবহার করবে, সে তো গতির ঝড় তুলবেই। আর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ তারা বয়সের কারণে একটু বেপরোয়া চালাতে চায়। অপর্যাপ্ত সচেতনতা, সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষার অভাব, নিয়ম না মেনে মোটরসাইকেল চালানো এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির বিষয়গুলো উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।