শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান পোপের

সোনার দেশ ডেস্ক ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান পোপের
পোপ লিও। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর অব্যাহত সহিংসতা ও হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


রোববার (১৬ আগস্ট) রোমের উপকন্ঠে নিজের ক্যাস্তেল গানদোলফো বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্ন প্রার্থনা শেষে দেওয়া এক বক্তব্যে পোপ এসব কথ বলেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরের ‘কুসরা’ গ্রামে উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও পুরো গ্রাম অবরোধের প্রেক্ষাপটে পোপের এই আহ্বান এলো। 


বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ঘেরাও করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। মূলত ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করে প্রস্তাবিত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা নস্যাৎ করাই এসব আগ্রাসনের প্রধান উদ্দেশ্যে।


নির্দিষ্ট কোনো সংঘর্ষের নাম উল্লেখ না করে পোপ বলেন, “পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর বারবার ঘটে চলা সহিংসতা বন্ধে আমি আবারো আহ্বান জানাচ্ছি। একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”


উল্লেখ্য, ভ্যাটিকান দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। গাজা ভূখণ্ড, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম সমন্বয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৫০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।


তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট সরকার পশ্চিম তীরে নতুন নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ খোলাখুলিভাবেই জানিয়েছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে চিরতরে মুছে ফেলতেই এই বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।


জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব ইসরায়েলি বসতিকে ‘অবৈধ’ বলে গণ্য করে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল অঞ্চলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেও তারা এটিকে ‘দখলকৃত’ ভূখণ্ড হিসেবে মানতে নারাজ, বরং ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ হিসেবে দাবি করে আসছে।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স, রাইজিংবিডি