রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

মোহনপুরে ২৫ কোটি টাকার উন্নয়নে বদলে যাবে গ্রামীণ যোগাযোগ

শাহীন সাগর, মোহনপুর ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
শাহীন সাগর, মোহনপুর ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
মোহনপুরে ২৫ কোটি টাকার উন্নয়নে বদলে যাবে গ্রামীণ যোগাযোগ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি সড়কের ৬ দশমিক ৬০৫ কিলোমিটার পুনর্বাসনে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে। এসব কাজ বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই কর্মসূচির আওতায় মোহনপুরে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার একটি সড়ক পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ কাজসহ চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম মিলিয়ে উপজেলায় সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের সরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে।


তবে শুধু সড়ক নির্মাণ নয়, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এলজিইডি। কার্যাদেশে নির্মাণসামগ্রী ও সম্পন্ন কাজের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল সংরক্ষণ, সাইট অর্ডার বুক সাইটে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।


এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লা নির্দেশনায় মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রকিব হাসান, উপ সহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী সরকার ও মো. সাব্বির খন্দকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকিতে এসব কাজ বাস্তবায়ন চলছে।


নির্মাণযন্ত্র ব্যবহারে কঠোর শর্ত

কার্যাদেশে নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এলজিইডির নির্মাণযন্ত্রপাতি ও রোড রোলার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অন্য কোনো সংস্থার রোড রোলার ব্যবহার না করার নির্দেশ রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নির্মাণযন্ত্রপাতি থাকলে তার মালিকানা ও ব্যবহারযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, পরিশোধের কাগজ, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ ও রোলার ক্রয়ের চুক্তিপত্র দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে সরকারি বিধি অনুযায়ী কাজের বিল থেকে নির্মাণযন্ত্রপাতি ও রোড রোলারের ভাড়া কর্তনের কথাও কার্যাদেশে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ (চচজ) এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও কার্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।


২৪ আগস্ট ছয় সড়কের উদ্বোধন

এদিকে মোহনপুরে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২৪ আগস্ট) ছয়টি সড়ক উদ্বোধনের তালিকা করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, সারাদিনব্যাপী এসব সড়কের উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে-চাঁদপুর চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশ থেকে মাখনপুর গুচ্ছগ্রাম হয়ে মুনসুর মেম্বারের বাসা পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৫ মিটার সড়ক। মৌগাছী জিপিএস থেকে কৃষ্ণপুর ইউজেডআর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক, কোটালীপাড়া ইউজেডআর থেকে কোটালীপাড়া বিডব্লিউডিবি পর্যন্ত ৯৯০ মিটার সড়ক, দাঁড়াপাড়া থেকে মুগাইপাড়াহাট পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ মিটার সড়ক, বিষহারা ইউজেডআর থেকে হাটখোলা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক এবং কৃষ্ণপুর ইউজেডআর থেকে কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া পর্যন্ত ৪৫০ মিটার সড়ক।

এসব সড়ক চাঁদপুর, নখড়াজিঘাট, হিন্দুপাড়া, ধোরসা, চক বিরহী, বিষহারা ও কৃষ্ণপুর এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


প্রাক্কলনের চেয়ে ১০.৮৬ শতাংশ কম দরে কাজ

এলজিইডির কার্যাদেশের নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় জবযধনরষরঃধঃরড়হ ড়ভ উযড়ঢ়ধমযধঃধ এঈগ-গড়যধহমধহল এঈগ (টঢ় ঃড় কঁঃঃরনধৎর) জড়ধফ ভৎড়স ঈয. ০০-৩২০০স সড়কটির পুনর্বাসন করা হয়েছে।

নথিতে দেখা যায়, সড়কটির পুনর্বাসন কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২ কোটি ৬২ লাখ ৬২ হাজার ১১০ টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৮ টাকা। অর্থাৎ প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৫৪ লাখ ১২ হাজার ২২ টাকা বা প্রায় ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ কম দরে কাজটি দেওয়া হয়েছে।

কম দরে কাজ দেওয়া হলেও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন, নকশা ও গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কার্যাদেশে একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত অর্থের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করেছে এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড কতটা অনুসরণ করা হয়েছে—তা তদারকির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ১৯ জুন নির্ধারিত সিডিউল, প্ল্যান ও ডিজাইন অনুযায়ী কাজ শেষ করা হয়েছে।


বদলে যাবে গ্রামীণ যোগাযোগ

এলজিইডির এসব সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এতে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং হাটবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।

মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রকিব হাসান বলেন, “এসব গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং কৃষিপণ্য দ্রুত ও সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য ও প্রকৃত মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি বলেন, কোনো ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় অনুমোদিত সড়কগুলোর কাজ ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

নির্ধারিত নকশা, স্পেসিফিকেশন ও প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে কাজ বাস্তবায়ন হলে এসব সড়ক দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।