রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

অর্থ পাচারের ক্ষতি পুষিয়ে অর্থনীতি সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ: এমপি মিলন

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
অর্থ পাচারের ক্ষতি পুষিয়ে অর্থনীতি সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ: এমপি মিলন

দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, অর্থপাচারের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থভান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


বেকারত্ব দূর করতে দেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করাই এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রোববার (২৩ আগস্ট) দিনব্যাপী পবা উপজেলার হরিয়ান, হরিপুর ও দামকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি মিলন বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে হবে। চাহিদাভিত্তিক ও জ্ঞাননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।


কৃষি, কারিগরি শিক্ষা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটসহ এলাকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।


দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছরে কাংখিত উন্নয়ন কাজ হয়নি। তবে পর্যায়ক্রমে এলাকার অসমাপ্ত ও প্রয়োজনীয় সব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজে কেউ যেন ঠিকাদার বা শ্রমিকদের হয়রানি না করেন। কাজের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে; তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পবা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পারিলা ইউনিয়নের বামন-শিকড় থেকে হরিয়ান ইউনিয়নের কুখন্ডি সোনারপাড়ার মোড় পর্যন্ত ২ হাজার ১৮০ মিটার সড়ক উন্নয়ন, হরিপুরে আজিজুলের দোকান থেকে আজিজ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার, আনারুলের বাড়ি থেকে হাসিনুর পর্যন্ত ৫০০ মিটার এবং দামকুড়া ইউনিয়নের মুরারীপুর কবরস্থান থেকে আদিয়াপুকুর পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। 


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ হবে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান ও সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পবা উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।


এসময় এমপি রাস্তার উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় বৃক্ষ রোপন করেন। অন্যদিকে পবার হাড়ুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে গাছের চারা বিতরণ করেন।