সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্রে যেসব সুবিধা
সঞ্চয়ের অর্থ নিরাপদে রেখে নিয়মিত মুনাফা পেতে চান? তাহলে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র হতে পারে একটি বিকল্প। প্রায় ২৮ বছর আগে চালু হওয়া এ সঞ্চয়পত্রের বিশেষত্ব হলো, এটি দেশের সব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিক কিনতে পারেন। বিনিয়োগের বিপরীতে প্রতি তিন মাস পরপর মুনাফা তোলার সুযোগও রয়েছে।
পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য এটি সীমাবদ্ধ নয়। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, মুনাফার হার ও কেনার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে।
কত টাকার সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়
এ সঞ্চয়পত্রের মূল্যমান ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে এটি কেনা যায়।
এর মেয়াদ তিন বছর। সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্ণ হলে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে তুলনামূলক কম হারে মুনাফা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মুনাফা পরিশোধ করা হয়ে থাকলে তা মূল টাকা থেকে সমন্বয় করা হবে।
কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে
একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মও এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারে।
ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, তবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফার্মের জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ২ কোটি টাকা। অটিস্টিকদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, অনাথ আশ্রম, শিশু পরিবার, এতিমখানা ও প্রবীণদের নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে।
কারা কিনতে পারবেন
সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, কৃষি ও খামারভিত্তিক নির্দিষ্ট আয়কারী প্রতিষ্ঠান, অটিস্টিকদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং দুস্থ-অনাথ শিশু ও প্রবীণদের নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র বিনিয়োগ করতে পারে।
মুনাফার ওপর কর
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। টিআইএন থাকলে মুনাফার ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে কর কর্তন করা হবে। তবে এ কর এখন আর চূড়ান্ত করদায় নয়। আয়কর রিটার্ন জমার সময় বিধি অনুযায়ী উৎসে কাটা কর সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।
যেসব সুবিধা রয়েছে
এ সঞ্চয়পত্রের অন্যতম সুবিধা হলো তিন মাস পরপর মুনাফা তোলার সুযোগ। পাশাপাশি নমিনি নিয়োগ করা যায়। ক্রেতার মৃত্যু হলে নমিনি চাইলে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে টাকা নিতে পারেন, অথবা মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা তুলতে পারেন।
এছাড়া মেয়াদপূর্তির আগে ইস্যু অফিসে যোগাযোগ করে স্বয়ংক্রিয় পুনর্বিনিয়োগের সুবিধাও নেওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর