ঈশ্বরদীতে পদ্মার বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের গুলিবর্ষণ,আহত ৫ :
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহাল দখল ও বালু ব্যবসা নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে ফের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড়পাড়া এলাকার পদ্মাপাড়ে গুলিবর্ষণে গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন স্কুল ছাত্রসহ কয়েকজন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মধ্যরাত পর্যন্ত থানার সামনে চলে বিক্ষোভ ও শ্লোগান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহতরা।
পুলিশ, এলাকাবাসী, আহতসহ স্থানীয় এলাকাবাসী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী অয়ন প্রামানিক (১৭), সে সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া খাঁ পাড়া গ্রামের মো. হামিদুল প্রামানিকের ছেলে, মাঝদিয়া স্কুলপাড়া এলাকার মো. সুরত আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬) ও পৌর শহরের পূর্ব টেংরি আমবাগান এলাকার মো. আমানউল্লাহ খাঁ এর ছেলে আকাশ খাঁ (২৬)।
আহতরা জানান, তারাসহ অনেকেই পদ্মা পাড়ের সাঁড়া এলাকার একটি কফি হাউজে সন্ধ্যায় কফি পান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ৩টি স্পিডবোটে নদী থেকে এসে একদল সন্ত্রাসী পদ্মা পাড়ে আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছুটাছুটি করে দৌড়ে নিরাপদে যান। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা বলেন, ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পড়ে ছিল, পুলিশ তা আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছেন।
আহত স্কুল ছাত্র অয়নের বড় ভাই মো. অন্তর জানান, আমাদের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। মাঝদিয়া স্কুলপাড়া পদ্মার ধারের একটি কফি হাউজে অবসরে অনেকেই সেখানে শখ করে কফি খেতে যান। এসময় নদীর তীর থেকে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই ঘটনায় আমার ছোট ভাই অয়নসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমার ছোট ভাই আহত হয়েছে এ খবর শুনে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।
গুরুতর আহত অয়ন বলেন, অতর্কিতভাবে একদল লোক এসে আমাদের মারধর করতে থাকে এবং কেউ একজন পেছন থেকে আমার মাথায় কোপ দেয়। গুলিবিদ্ধ আকাশ বলেন, সাঁড়ায় কফি হাউজে সন্ধ্যায় কফি খেতে গিয়েছিলাম হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে ভয় পেয়ে বাড়ি ফেরার সময় আমার মাথা গুলি লাগে। কাকন বাহিনীর লোক গুলি করতে পারে বলে ধারণা করছি। বর্তমান উপজেলা সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামের পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে দুই জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। ওসির ভাষ্য পদ্মার বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সেখানে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত: গত এক সপ্তাহ জুড়ে ঈশ্বরদীর সাঁড়া এলাকায় পদ্মা নদীর বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিয়ে দুটি পক্ষ বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন করে আসছিলেন। এরই জের ধরে সোমবার রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ধারনা।