শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ১৮০ ছাড়াল, উদ্ধার তৎপরতায় জোর

WP Import ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ১৮০ ছাড়াল, উদ্ধার তৎপরতায় জোর
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু ১৮০ ছাড়াল, উদ্ধার তৎপরতায় জোর

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে একটি আবাসিক এলাকায় আটকা পড়াদের উদ্ধারে ভাসমান নৌকা নিয়ে উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা। ছবি: রয়টার্স

সোনার দেশ ডেস্ক:


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিরাট এলাকাজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৮৩-তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বেশিরভাগ এলাকায় পানি নামতে শুরু করায় তারা এখন আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার কাজ জোরদার করেছে বলেও জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিরাট অংশজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে, এদিকে মালাক্কা উপকূলেও বিরল এক ঝড় সৃষ্টি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে ৯৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে তিন প্রদেশের কর্তৃপক্ষ।
সুমাত্রার পদাং পারিয়ামান এলাকায় মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসিন্দারা এক মিটার পর্যন্ত উঁচু পানির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্যার পানি না কমায় শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি।

“আমাদের খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে,” বলেছেন ৪০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ রাইস। বৃহস্পতিবার পানি বাড়তে থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।
দেশটির জাতীয় জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, দ্বীপটির অনেক জায়গা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং ভূমিধসের জঞ্জালে বন্ধ থাকা রাস্তা পরিষ্কারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

শুক্রবারও বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিমানযোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে।
থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর হাত ইয়াইয়ে শুক্রবার বৃষ্টি থেমেছে। তবে বাসিন্দাদের এখনও গোড়ালি সমান উচ্চতার পানিকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বহু বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, বেশিরভাগই গত এক সপ্তাহে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে ব্যস্ত। একজন বলেছেন, তিনি ‘সবই হারিয়েছেন’।

প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায়ও এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড় ‘সেনিয়ার’ মধ্যরাতে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। উত্তাল সাগরে চলাচলে ছোট নৌযানকে সতর্কও থাকতে বলেছে তারা।

দেশটিতে ৩০ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন, বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল৩৪ হাজার।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের বন্যাকবলিত ২৫টিরও বেশি হোটেলে আটকা পড়া এক হাজার ৪৫৯ মালয়েশিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করেছে। এখনো প্রায় ৩০০ জন বন্যাক্রান্ত বিভিন্ন এলাকায় আটকা রয়েছেন, তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ