শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মার্কিন শান্তি পরিকল্পনায় সমঝোতা হয়েছে : ইউক্রেন

WP Import ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৩৬ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৩৬ অপরাহ্ন
মার্কিন শান্তি পরিকল্পনায় সমঝোতা হয়েছে : ইউক্রেন
মার্কিন শান্তি পরিকল্পনায় সমঝোতা হয়েছে : ইউক্রেন

ইউক্রেনের একটি সুপারমার্কেট গুদামের কমপাউন্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থলে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স।

সোনার দেশ ডেস্ক :


ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করা বিষয়ে একটি সম্মিলিত বোঝাপড়া হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে গত সপ্তাহে কিয়েভের কাছে ২৮ দফার এক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সপ্তাহান্তে জেনেভায় আলোচনায় বসেন মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উভয় পক্ষের বাড়তি পরামর্শের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাটি আরও সূক্ষ্মভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আমার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছি। একই সময় সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক প্রধান ড্যান ড্রিসকল ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।’
ড্রিসকল এ সপ্তাহেই কিয়েভ আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও লিখেছেন, তিনি শিগগিরই জেলেনস্কি ও পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী, “কিন্তু কেবল তখনই যখন এই যুদ্ধ শেষ করার চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে বা তার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকবে।”
পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, পরিকল্পনায় “উভয় পক্ষেরই” কিছু ভূমি ছাড় দেওয়ার বিষয় আছে এবং সীমান্ত “পুনর্বিন্যাস” করারও কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, তিনি কোনো পক্ষকেই চুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি, উল্লেখ করে—“আমার কাছে ডেডলাইন হচ্ছে যখন এই যুদ্ধ শেষ হবে, তখনই।”
ক্রেমলিন আগেই বলেছিল, এই নতুন খসড়া পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো রাশিয়ার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি এবং গত সপ্তাহের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হলে মস্কো তা গ্রহণ নাও করতে পারে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, মস্কো যদিও প্রাথমিক মার্কিন কাঠামোর পক্ষে ছিল, তবে সেই কাঠামোয় যদি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়ে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি “মৌলিকভাবে ভিন্ন” হবে।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ক্রেমলিন নতুন পরিকল্পনার (সংশোধিত পরিকল্পনার) কোনও অনুলিপি পায়নি বলেও জানান লাভরভ। তিনি ইউরোপের বিরুদ্ধে মার্কিন শান্তি চেষ্টাকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন।
এদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ‘সংবেদনশীল বিষয়গুলো’ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তার প্রশাসনের লক্ষ্য, এ মাস শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠক আয়োজন করা।

মার্কিন কর্মকর্তারা রাশিয়ার উদ্বেগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, যদিও ড্রিসকল ও রুশ প্রতিনিধিরা সোমবার ও মঙ্গলবার আবু ধাবিতে বৈঠক করেছেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার কিছু মৌলিক বিরোধপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে বলে জানা গেছে—এর মধ্যে রয়েছে কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পূর্ব ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ, যেখানে এখনও যুদ্ধ চলছে।
হোয়াইট হাউজ তুলনামূলকভাবে আশাবাদী হলেও ইউরোপীয় নেতারা প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের দ্রুত সমাধান নিয়ে সন্দিহান।

নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ইস্যুটি মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে মতপার্থক্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সোমবার জেলেনস্কি বলেন, শান্তির পথে প্রধান বাধা হলো পুতিনের দাবি—রাশিয়া যে এলাকাগুলো দখল করেছে সেগুলোর আইনি স্বীকৃতি।

মস্কো শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে ইউক্রেনকে সম্পূর্ণভাবে পূর্বাঞ্চলের দোনবাস এলাকা—যা দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে গঠিত—থেকে সরে যেতে হবে। এছাড়া রুশ বাহিনী বর্তমানে ক্রিমিয়া (যা রাশিয়া ২০১৪ সালে দখল করে) এবং খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

কয়েক সপ্তাহ শান্তি-সংক্রান্ত কূটনীতি স্থবির থাকার পর, মার্কিন সমর্থিত পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হওয়ার পরই একধাপ তৎপরতা দেখা দেয়।
এদিকে যুদ্ধ চলছেই। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই মঙ্গলবার রাতে জাপোরিঝঝিয়ায় হামলা চালানোর দাবি করেছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন