রাস্তায় যৌন হেনস্তার কবলে পড়ার অভিযোগ মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের

সোনার দেশ ডেস্ক :
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, তিনি রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে হেঁটে সরকারি এক বৈঠক থেকে আরেক বৈঠকে যাওয়ার সময় যৌন হেনস্তার মুখোমুখি হয়েছেন। একজন পুরুষ তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরদিন বুধবার তিনি জানান, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বলেছেন, “যদি প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আমাদের দেশের সব তরুণীদের অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে। নারীদের ব্যক্তিগত স্থান অপব্যবহার করার অধিকার কোনো পুরুষের নেই।”
রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংতা ও পুরুষতন্ত্রে ডুবে থাকা মেক্সিকোতে নারীরা কী ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয় তা দেশটির অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়।
এই ঘটনায় শেইনবাউমের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার উত্তরসূরী সাবেক প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের মতো শেইনবাউমও ন্যূনতম নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করেন আর জনতার সঙ্গে অবাধে মিশে যান। তিনি মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়েও হেঁটে যান।
বুধবার তিনি জানিয়েছেন, নিজের এই অভ্যাস পাল্টানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বলেছেন, “আমাদের জনগণের কাছাকাছি থাকতে হবে।”
মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে ঘটনাটি ঘটে। তখন তিনি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের দপ্তর ও বাসভবন জাতীয় প্রাসাদ থেকে অল্পদূরে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় পথে থাকা লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন তিনি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, মধ্যবয়সী এক পুরুষ হাত দিয়ে শেইনবাউমকে জড়িয়ে ধরছেন, তার বুক স্পর্শ করছেন এবং তাকে চুমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্টের একজন কর্মী তাদের মাঝখানে এসে দাঁড়ানোর আগে শেইনবাউম ওই ব্যক্তির হাত সরিয়ে দেন। ওই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছাকাছি দেখা যায়নি।
শেইনবাউম জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি সম্ভবত মাতাল ছিলেন।
ওই ব্যক্তি তাকে জড়িয়ে ধরছেন, এরকম একটি ছবি প্রকাশ করার জন্য শেইনবাউম মেক্সিকোর রেফোরমা সংবাদপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এটিকে তিনি ‘ফের-হেনস্তা’ বলে বিবেচনা করছেন জানিয়ে সংবাদপত্রটি একটি নৈতিক লাইন অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনের দিকে ইঙ্গিত করে শেইনবাউম বলেন, “এই ছবি ব্যবহার করাও একটি অপরাধ। ওই সংবাদপত্র থেকে ক্ষমা চাওয়ার অপেক্ষায় আছি আমি।”
শেইনবাউম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তৈরি করা মেক্সিকোর নারী মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নারীদের তাদের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে উৎসাহ দিয়েছে আর গণমাধ্যমকে ‘নারীর আত্মমর্যাদা লঙ্ঘন করে এমন বিষয়বস্তু পুনরুৎপাদন না করার’ জন্য বলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে শুধু নারী হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে ৮২১টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই ধরনের হত্যা রেকর্ড করা হয়েছে ৫০১টি। নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
নারীদের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতার বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ করে শেইনবাউমের তীব্র সমালোচনা করে আসছে নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা।
শেইনবাউম বলেছেন, যৌন হেনস্তা ‘আইনের মাধ্যমে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হওয়া উচিত’। তিনি জানিয়েছেন, তিনি মেক্সিকোর প্রতিটি রাজ্যের এ বিষয়ক আইনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
রয়টাসর জানিয়েছে, রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ মেক্সিকোর প্রায় অর্ধেক রাজ্যে যৌন হেনস্তা একটি অপরাধ।
যে ব্যক্তি শেইনবাউমকে হেনস্তা করেছে তাকে উরিয়েল রিভেরা বলে শনাক্ত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম। দাখিল করা রাষ্ট্রীয় এক নিরাপত্তা নথিতে দেখা গেছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় উরিয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ