শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

তেহরানে দুই সপ্তাহের মধ্যে পানীয় জল শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা

WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ০২:০১ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ০২:০১ অপরাহ্ন
তেহরানে দুই সপ্তাহের মধ্যে পানীয় জল শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা
তেহরানে দুই সপ্তাহের মধ্যে পানীয় জল শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা

আমির কবির ড্যাম। ছবি: অনলাইন।

সোনার দেশ ডেস্ক :


ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের জন্য প্রধান পানীয় জলের উৎস আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঐতিহাসিক খরার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

তেহরানকে পানীয় জল সরবরাহকারী পাঁচটি ড্যামের মধ্যে একটিতে (আমির কবির ড্যাম) বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে, যা এর মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন রাজধানীর পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বেহজাদ পারসা।
পারসা জানিয়েছেন, এই মাত্রায় ড্যামটি সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ তেহরানকে পানি সরবরাহ করতে পারবে।

দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মধ্যে রয়েছে। গত মাসে এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন,তেহরানে বৃষ্টিপাতের মাত্রা প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে নজিরবিহীনভাবে কম ছিল।
১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের এই বিশাল মহানগরী বরফাচ্ছন্ন আলবোরজ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত। এই পর্বতমালা থেকে নেমে আসা নদীগুলোই একাধিক জলাধারকে পানি সরবরাহ করে।
এক বছর আগে আমির কবির ড্যামে ৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি ছিল বলে জানিয়েছেন পারসা। কিন্তু তেহরান অঞ্চলে বৃষ্টিপাত সম্পূর্ণভাবে কমে যাওয়ায় ড্যামের পানি এমনভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তবে তিনি অন্য জলাধারগুলোর অবস্থা সম্পর্কে কোনও তথ্য দেননি।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের জনগণ প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে।
পানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই গ্রীষ্মেও ঘনঘন পানি সরবরাহ বন্ধের ঘটনা ঘটেছে।
জুলাই ও আগস্টে পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দুইদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন তীব্র তাপপ্রবাহে তেহরানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। কিছু এলাকায় তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে।

তখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশটির পানি সংকট বর্তমানে যেভাবে আলোচনা করা হচ্ছে তার চেয়েও বেশি গুরুতর।
ইরানজুড়ে পানি সংকট একটি বড় সমস্যা, বিশেষ করে দক্ষিণের শুষ্ক প্রদেশগুলোতে। এর জন্য ভুল পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে দায়ী করা হয়।

ইরানের প্রতিবেশী ইরাকও ১৯৯৩ সালের পর সবচেয়ে শুষ্ক বছর পার করছে। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীতে পানির স্তর কম বৃষ্টিপাত এবং উজানে নদীর পানি আটকে রাখার কারণে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন