শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

আলোর উৎসবে শ্যামার আরাধনা

WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
আলোর উৎসবে শ্যামার আরাধনা
আলোর উৎসবে শ্যামার আরাধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তির বিজয় ও অন্ধকারকে দূর করে শুভ ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠায় আলোর উৎসব পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিবছরের কার্তিক মাসে এই দীপবলিতে এই কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। যা ‘দীপান্বিতা কালীপূজা’ নামে খ্যাত। কালীর অপর নাম শ্যামা। এই নামে এই তিথিতে পূজিত হন কালী। এই ভূমিতে বহু প্রাচীনকাল থেকেই শক্তি সাধনার প্রচলন আছে।
অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির আনয়নে ভক্তরা এ মহাশক্তির বন্দনা করেন। ভক্তদের বিশ্বাস মহাশক্তির আরাধনায় সকল অশুভ শক্তির বিনাশ হয়ে অন্ধকার থেকে আলোর পথ সুগম হয়। সর্বজনীন ও ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ছাড়াও রাজশাহী নগরীর শতাধিক দৃষ্টিনন্দন পূজা মন্দিরে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর প্রতিটি পূজা মন্দির ও ম-পে শ্যামা বা কালী বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিগ্রহ স্থাপনের পর আনুসঙ্গিক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে গভীর রাতে পূজা শুরু হয়ে সূর্যোদয়ের আগে সম্পন্ন হয়। একরাতে পূজা শেষ হলেও রাজশাহীতে শ্যামা পূজার বর্ণিল আলোকসজ্জাসহ প্রাণবন্ত উৎসব আমেজ থাকে। এই রাতেই দেওয়া হয় পাঠাবলী।

শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার অকাল বোধন করে। পরে লঙ্কায় গিয়ে রাবণ বধ করে বিজয়া দশমীতে। এরপর সীতাকে উদ্ধার করে ফেরেন অযোধ্যায়। ১৪ বছর বনবাসের পর সীতাকে সঙ্গে নিয়ে রাম ও লক্ষ্মণ যখন অযোধ্যায় ফেরেন, প্রজারা তাদের এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বিজয়ার পরবর্তী কার্তিক মাসের অমাবস্যার দিনে ঘরে ঘরে আলো জ্বালিয়ে দীপাবলি উৎসব পালন করেন।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশেষ বার্তা সমৃদ্ধ ম-প, প্রতীমা এবং ভিন্ন ভিন্ন তোরণের সমারোহে উৎসব উদযাপনে মেতে ওঠেন রাজশাহীর সনাতন ধর্মের মানুষরা। উৎসবকে ঘিরে ধর্ম বর্ণের গন্ডি পেরিয়ে সকল মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় প্রতিটি ম-প ও মন্দির আঙ্গিনা। পূজার দিন থেকে প্রতীমা নিরঞ্জনের আগ পর্যন্ত নানা প্রতিযোগিতা, কীর্তনসহ অনন্যান্য আয়োজন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পূজার সারা রাতে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যতিক্রমী মন্দির-ম-পে পূজা প্রাঙ্গণমুখী দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে জানা যায়, আশ্বিন মাসের নরক চতুর্দশীর দিন ভগবান বিষ্ণু প্রবল পরাক্রমশালী নরাসুরকে বধ করেছিলেন। তার বধের মধ্য দিয়েই বসুন্ধরার সৃষ্টি। তাই এই বসুন্ধরার জন্মের তিথি উপলক্ষে গৃহস্থরা নিজ নিজ ঘরদোর সব পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে রাখে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন করে নতুনের আহবান জানানো হয়।
বাঙালি সনাতন ধর্মাবম্বলীরা আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে কালীপূজা উদযাপন করেন। কালীপূজা মূলত অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করে শুভ শক্তির সাধনা। শুধু আলো জ্বালিয়েই উৎসবের উদযাপন শেষ হয় না। আতশবাজি পোড়ানোর ধুমও দেখা যায়। অশুভ শক্তি বিতাড়নের এটাও এক প্রাচীন আচার।