ছাত্রশিবিরের প্রার্থীকে হারিয়ে হলেন রাকসুর জিএস, কে এই আম্মার

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার। অন্যান্য পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর পদপ্রার্থীদের ভূমিধস বিজয়ের মধ্যে তার এই জয় এখন পুরো ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাকসু নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ভোটের ব্যবধানে এই জয় রাকসু নির্বাচনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ২০টি পদেই বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। কিন্তু জিএস পদটি তারা হারিয়েছে সালাহউদ্দিন আম্মারের কাছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সালাহউদ্দিন আম্মার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বয়সে তরুণ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে তিনি ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই তার নেতৃত্বগুণ ও সাহসী অবস্থান শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম সমন্বয়ক, আর সহপাঠীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘স্লোগান মাস্টার’ নামে।
আম্মার একসময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তবে, বর্তমানে ছাত্রশিবিরের সাথে তাঁর সম্পর্ক দুই মেরুতে অবস্থানের মতো। আম্মার মূলত রাজনীতি শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই। এর আগে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে যুক্ত ছিলেন, তবে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক চেতনা বিকশিত হয়। ক্যাম্পাসে তিনি ছিলেন প্যালেস্টাইন সংহতি কর্মসূচি, মানবাধিকার, ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিসহ নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরব। পরে তিনি একটি পার্ট-টাইম চাকরিতে যোগ দেন, তবে জুলাই আন্দোলনের সময় চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজপথে নেমে আসেন। এরপর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন।
বর্তমানে রাবি ক্যাম্পাসে সালাহউদ্দিন আম্মারের এই তুমুল জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ রাবি থেকে পোষ্যকোটা বাতিলের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকা। অনেকে সমঝোতার কথা বললেও পোষ্যকোটা বাতিলের দাবিতে আম্মার এখনো অনড়। ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’-এর সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে আম্মারকে সহপাঠীরা দেখছেন একজন নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে। লিয়াজু বা তোষণ রাজনীতির বাইরে থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, এবং সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। অনেকের চোখে তিনি ‘অতি সোজাসাপ্টা’ হলেও, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন সাহসী প্রতিবাদের প্রতীক। আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সালাউদ্দিন আম্মার সাহসী একটা ছেলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ রাবি ক্যাম্পাসে হওয়া সব যৌক্তিক আন্দোলনেই তাঁকে সোচ্চার দেখেছি আমরা। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও তিনি সরব থাকেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের কথা না ভেবেই অনেক ঝুঁকি নিয়েছেন। অন্যান্য জিএস পদপ্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষার্থীরা হয়তোবা তার মাঝেই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বেশি খুঁজে পেয়েছেন। এজন্যই হয়তোবা তাঁরা তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন।