শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীর পদ্মায় বালু উত্তোলন নিয়ে ফের গোলাগুলি

WP Import ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০২:৪৩ অপরাহ্ন
WP Import ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ০২:৪৩ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে পদ্মা নদীর সাঁড়া ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে পদ্মা নদীর সাঁড়া ঘাট ও ইসলামপাড়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা প্রশাসন, থানা ও নৌ-পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকালে সুলতান আলী বিশ্বাস টনির লোকজন ইসলাম সাড়াঘাট এলাকায় ড্রেজার লাগিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিল। এসময় নদীর কুষ্টিয়া প্রান্ত থেকে স্পিডবোট ও বড় নৌকায় একদল দুর্বৃত্ত সেখানে এসে আচমকা গুলিবর্ষণ করে।

ঘটনার আকস্মিকতায় বালু উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যায়। এতে কোন হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে নদী পাড়ের বেশ কয়েকটি বাড়ির টিনের বেড়া ও চালা গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় নদী থেকে গুলি করতে করতে নদীপাড় এলাকায় উঠে আসে সন্ত্রাসীরা। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান এলাকার একাধিক বাসিন্দা। ইজারাদার সুলতান আলী বিশ্বাস টনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আমার লোকজন সাঁড়া ঘাটের ইসলামপাড়া এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছিল। আচমকা আমাদের লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গতঃ এর আগে সাঁড়া ঘাটে পদ্মা নদীর তরীয়া মহলে ইজারার টোল আদায়কে কেন্দ্র করে গত ৬ অক্টোবর ছাত্র ও কৃষকসহ দুজন নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। সেসময় দুর্বৃত্তরা ঘাট থেকে স্পিডবোট ও নৌকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তরিয়া মহালের ইজারাদার মেহেদী হাসান।

ইতোপূর্বে বালু মহালের ইজারা ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মে গোলাগুলিতে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সোমবার পর্যন্ত এ নিয়ে প্রায় ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পদ্মাপাড়ে গোলাগুলির ঘটনায় নৌ-পুলিশকে মামলা করতে বলা হয়েছে। শিগগিরই পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ-পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।