রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ভারতের একতরফা পুশব্যাক, আইনি প্রক্রিয়া অগ্রাহ্য হচ্ছে

WP Import ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৭:৪৬ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

মাস চারেক ধরে অনেক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এরফলে যারা ভারতীয় নাগরিক অচেনা, স্বজনহীন বাংলাদেশে অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। দুর্ভোগ আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে তারা নিজ দেশে, পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে আহাজারি করছে।
সম্প্রতি সোনালি খাতুন নামে ওই গর্ভবতী নারী সহ মোট ছয়জনকে দিল্লি থেকে আটক করে সেখানকার পুলিশ। তাদেরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশ আউট করে দেয়া হয়েছিল। যদিও তারা আটক হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পুলিশ একাধিক নথি জোগাড় করে দিল্লি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছিল, যাতে দেখা গিয়েছিল যে সোনালি খাতুন সহ ছয়জনই ভারতের নাগরিক।
ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার পরে তারা বেশ কিছুদিন বাংলাদেশেরই কোনো একটা এলাকায় ছিলেন। তারপরে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। ভারতে তাদের আটক করা হয় ২৪ জুন, আর বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় ২৬ জুন।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সোনালি খাতুনের হয়ে তার বাবা কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। সেই মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা জানিয়েছেন যে সোনালি খাতুন, তার স্বামী ও সন্তানকে আটক করাটাই বেআইনি কাজ হয়েছিল। এই তিনজনের সঙ্গে আরও একটি পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিচারপতিরা কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন যে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এই পরিস্থিতি বরং ভারতের স্থিতিশীলতার ওপরই প্রভাব পড়েছে। এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সঠিকরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়ায় মুসলিমদের ধরে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি খুব অন্যায়। সংবাদ সূত্রগুলো জানাচ্ছে- উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যে হাজার হাজার দরিদ্র ও মূলত শ্রমজীবী মানুষ আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। কারণ, শত শত ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি বলে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মুম্বাইয়ের নাগরিক সমাজভিত্তিক সংগঠন ‘সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (সিজেপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আসামের ৩৩টি জেলায় নারী, শিশু ও পুরুষদের বেআইনিভাবে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। সিজেপির তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মে থেকে হঠাৎ রাজ্যের ৩৩ জেলায় পুলিশি অভিযান শুরু হয়। কোনো মামলা, নোটিশ বা আইনি ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রায় ৩০০ মানুষকে আটক করা হয়। সাংবিধানিক ও আইনি নিয়ম লঙ্ঘন করে তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবার বা আইনজীবীদের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। জানা গেছে, প্রায় ১৫০ জনকে মুক্তি দেয়া হলেও প্রায় ১৪৫ জনকে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ ঠেলে দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যেভাবে পুশ-ইন করছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়- কারণ এটার একটা আইনি প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু ভারত সেটা মানছে না। বাংলাদেশি যদি কেউ ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করে থাকে তাদের অবশ্যই আইনগতভাবে ফেরত পাঠাতে হবে। পুশ-ইন কোনো বৈধ প্রক্রিয়া নয়। এটা দুই দেশ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবে। আর তাদের দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরও তারা বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে। এই পুশ-ইন আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী। কেউ যদি ভারতে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া থাকে তাদের আটক করে সেখানকার আদালতে নিয়ে ভেরিফাই করতে হবে। ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা হতে পারে, কিন্তু তারা যেটা করছে সেটা বেআইনি। এ ধরনের একতরফাভাবে পুশব্যাক করা উভয় দেশের পরস্পর সম্পর্কের জন্যও ভাল উদাহরণ নয়। যা শুধু বিরোধকেই উসকে দিবে। দুই দেশের জনগণের কাছে এটা মোটেও প্রতাশিত নয়।