রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

সাপেকাটা রোগিদের চিকিৎসায় বিশেষ ওয়ার্ড, রাজশাহীর মানুষের জন্য সুখবর

WP Import ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

দেশে প্রথমবারের মতো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের বিশেষায়িত ওয়ার্ড হতে যাচ্ছে। ওয়ার্ডে থাকছে ১২টি শয্যা। চলতি মাসেই চালু করতে চান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ওয়ার্ডে সাপে কাটা রোগীদের তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
এর আগে ডেঙ্গু, করোনা ও নিপাহ ভাইরাসের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা হয়েছিল। সম্প্রতি সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এর মৃত্যুহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতি্েদনের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক নার্স ও চিকিৎসক থাকবেন। পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার প্রতি ডোজের দাম পড়বে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এক ডোজের জন্য ১০ ভায়াল লাগে। কোনো কোনো রোগীর একাধিক ডোজের প্রয়োজন পড়ে। হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধ পাবেন রোগীরা।
আশা জাগানিয়া খবর। রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত ওয়ার্ড চালুর ঘোষণায় প্রশংসার দাবি রাখেন। ওয়ার্ডটি চালু হলে সাপে কাটার রোগিদের জন্য তা নতুন জীবন দানের মতই হবে। দরিদ্র মানুষ যারা অর্থের অভাবে সহসাই ওঝার শরণাপন্ন হয়ে থাকেন তাদের জন্যও বড় নির্ভরতার প্রতিষ্ঠান হবে রামেক হাসপাতাল।
দেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। সাপেকাটা অনেক রোগি যারা চিকিৎসা সুবিধার অভাবে কিংবা অজ্ঞানতার কারণে তাদের মৃত্যু হয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সাপের দংশনে কেউ না কেউ আহত হচ্ছেন কিংবা প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ এখনো বাংলাদেশে নেই নিজস্ব উৎপাদিত অ্যান্টিভেনম, নেই উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের জন্য কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন, যার মধ্যে গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় শুধু সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায়। রোগী অ্যান্টিভেনম পেলেও সেটার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থাকে। আবার সময়মতো প্রয়োগ না হলে সেটা প্রাণ বাঁচাতে পারে না। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, চিকিৎসা শিক্ষার পাঠ্যক্রমে সর্পদংশনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণও নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের সরকারি হাসপাতালে যে পরিমাণ অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়, তা চাহিদার মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। আবার সংরক্ষণের সঠিক অবকাঠামো না থাকায় অনেক ওষুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দেশে অ্যান্টিভেনাম তৈরি হয় না, আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। অথচ দেশের সাপ থেকে বিষ সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনাম তৈরি করলে তা আরো বেশি কার্যকর হতো। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ‘ভেনম রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হলেও আজও তা পরীক্ষামূলক ধাপে আটকে আছে। কার্যকর উৎপাদন হয়নি, নেই কোনো জাতীয় পরিকল্পনা। যদি উদ্যোগটি সফল হতো, তাহলে দেশীয় প্রজাতির বিষধর সাপের জন্য উপযোগী অ্যান্টিভেনম দেশের মাটিতেই তৈরি হতো।
যাহোক, রামেক হাসপাতাল সাপেকাটা রোগিদের জন্য কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এটা রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের জন্য সুখবরই বটে।