রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

বাংলাদেশে তাপামাত্রা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধে সাফল্য কতটুকু?

WP Import ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় গত বছর অন্তত ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে, এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ১৩৩ কোটি থেকে ১৭৮ কোটি ডলার বা অন্তত ২১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
১৬ সেনপ্টেম্বর ঢাকায় প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যান আনসাসটেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে, তাদের প্রতিবেদন শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার সঙ্গে তাপের সম্পর্ক পর্যালোচনা করে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। দীর্ঘমেয়াদি কাশির সমস্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। ্ছাড়াও তাপজনিত ক্লান্তি, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্যেও ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ খুব দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে বায়ুম-লের তাপমাত্রার ওপর। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। গত কয়েক দশকে এতো বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়া আর কখনো দেখা যায় না। বর্তমানে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪১-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তারও বেশি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে প্রায় ৪৪-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে অনেক বেশি, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য।
এর জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ি করা হচ্ছে। উষ্ণায়ন প্রতিরোধে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, গাছ লাগানো ও বন সংরক্ষণ, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। উষ্ণায়ন প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশে^ই পরিবেশবাদিরা সোচ্চার হচ্ছেন। কিন্তু কোনোভাবেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। উন্নত দেশগুলো তাদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে বৈশি^ক উষ্ণায়ন থেকে পৃথিবীকে রক্ষার বিশ^ নাগরিকদের আকাক্সক্ষা অধরাই থেকে যাচ্ছে। বিশ^ ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।