রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ পুষ্টিহীন, সামাজিক নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ চাই

WP Import ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন। অথচ মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ আমিষ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই অপুষ্টি দিনদিন বেড়েই চলছে। অপুষ্টির এই চিত্র নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং একই সাথে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে- এমনই ইঙ্গিত দেয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থা মিলে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংস্থাগুলো হলো এফএও, ইফাদ, ডব্লিউএফপি, ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। সে হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৮ কোটি ধরা হলে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। আর যদি জনসংখ্যা ধরা হয় ২০ কোটি, তাহলে অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি। এর মধ্যে একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নারী ও শিশু। সহসাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন কোনো সম্ভাবনাও নেই। কেননা সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থানের অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। যার ফলে রোগ বালাইও বাড়ছে। এতে করে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি।
জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী, সুষম খাদ্য গ্রহণের খরচ বলতে বোঝানো হয় একজন ব্যক্তির দৈনিক ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তির চাহিদা পূরণ করে এমন খাদ্যের জন্য স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী খাবার কেনার ব্যয়ের সক্ষমতা।
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে খাদ্য উৎপাদন এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে। কিন্তু তারপরও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা একটি প্রধান সমস্যা, যেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও খরা-র মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে অসামঞ্জস্যতা প্রধান কারণ। এছাড়া, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির অভাব, ন্যায্য বাজারমূল্য না থাকা, এবং খাদ্য অপচয়ও এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল । দেশের মানুষের খাদ্যের একটি বড় অংশ কৃষি থেকে আসে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য থেকে। তবে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনযাত্রা উন্নত করার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু পদক্ষেপটা নেয়া হয়নি। বরং ধনি-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বেড়েই চলেছে। এর ফল হচ্ছে- একাংশের মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে এবং তিব্র খাদ্য নিরাপত্তার মুখে পড়ছে। এই শ্রেণির মানুষদের কীভাবে উপরের দিকে উঠানো যায়- সেদিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে এমন এক যৌক্তিক পরিণতি দেয়া দরকার যে, মানুষ তার খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিমান ও জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে পারে।